পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রমজান মাসে রোজা রাখা ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান। তবে কিছু নির্দিষ্ট কারণে রোজা ভেঙে যায় এবং তা পুনরায় রাখার জন্য কাজা ও কাফফারা আদায় করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি কোনো বৈধ কারণ ছাড়া রমজানের একটি রোজা ভেঙে ফেলে, তার সারাজীবনের রোজা দিয়েও সে এর ক্ষতিপূরণ করতে পারবে না।” (তিরমিজি, হাদিস: ৭২৩)
👉 যেসব কারণে রোজা ভেঙে গেলে কাজা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হয়:
১. ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা— যদি কোনো ব্যক্তি দিনের বেলা ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু খায় বা পান করে, তাহলে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং কাফফারাও দিতে হবে।
২. ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাস করা— রমজানের দিনে যদি কেউ স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয়, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং কাফফারাও আদায় করতে হবে।
3. ধূমপান বা নেশাজাতীয় কিছু গ্রহণ করা— ধূমপান বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাফফারাও দিতে হবে।
4. ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটানো— কোনো ধরনের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করতে গিয়ে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাফফারাও আদায় করতে হবে।
👉 যেসব কারণে রোজা ভেঙে গেলে শুধু কাজা করতে হয়, কাফফারা দিতে হয় না:
- ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা এবং মুখে আসা বমি পুনরায় গিলে ফেলা।
- নারীদের হায়েজ (ঋতুস্রাব) ও নিফাস (প্রসবকালীন রক্তস্রাব) শুরু হওয়া।
- শক্তিবর্ধক ইনজেকশন বা গ্লুকোজ-স্যালাইন গ্রহণ করা।
- প্রস্রাব বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে ওষুধ বা অন্য কিছু শরীরে প্রবেশ করানো।
- রোজাদারকে কেউ যদি জোর করে খাওয়ায় বা পান করায়।
- ইফতারের সময় হয়েছে ভেবে ভুলক্রমে সূর্যাস্তের আগে ইফতার করা।
- ভুলবশত কিছু খেয়ে ফেলার পর, মনে করে যে রোজা ভেঙে গেছে এবং এরপর আবার ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া।
- বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনো তরল অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখে চলে গিয়ে তা গিলে ফেলা।
- জিহ্বার সাহায্যে দাঁতের ফাঁক থেকে ছোলার পরিমাণ কোনো কিছু বের করে খেয়ে ফেলা।
- রোজার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় অজু করতে গিয়ে নাকে বা মুখে বেশি পানি নিয়ে ফেলা, যার ফলে তা পেটে চলে যায়।
👉 রোজার কাজা ও কাফফারা কী?
✅ কাজা: রোজার কাজা মানে হলো রোজার পরিবর্তে পরে সেই রোজা রাখা। রমজানের পর সুবিধামতো সময়ে কাজা রোজা আদায় করা যায়। একসঙ্গে সব কাজা রোজা রাখা জরুরি নয়, ধাপে ধাপে রাখা যেতে পারে।
✅ কাফফারা: রোজার কাফফারা মানে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। যেসব কারণে রোজার কাফফারা আদায় করতে হয়, সেগুলোর জন্য শুধু কাজা যথেষ্ট নয়। কাফফারার বিধান হলো:
- একজন দাস মুক্ত করা (বর্তমানে এর সুযোগ নেই)।
- দাস মুক্ত করতে অক্ষম হলে টানা ৬০ দিন রোজা রাখা (এ ক্ষেত্রে রোজা মাঝখানে ভেঙে গেলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে)।
- যদি কেউ টানা ৬০ দিন রোজা রাখতে না পারে, তাহলে ৬০ জন গরিব-মিসকিনকে দুই বেলা খাবার খাওয়াতে হবে।
রোজা ভঙ্গের কারণ সম্পর্কে জানা জরুরি, যাতে আমরা অনিচ্ছাকৃত ভুল এড়িয়ে চলতে পারি। শরিয়ত নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী রোজা ভেঙে গেলে যথাযথ কাজা ও কাফফারা আদায় করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


