পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটর খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা অনুযায়ী কোনো অপারেটরে বিদেশি বিনিয়োগকারীর মালিকানা সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকবে। ফলে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন বাংলালিংককে ১৫ শতাংশ এবং ৯০ শতাংশ বিদেশি মালিকানাধীন রবিকে ৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে হবে। এসব শেয়ার দেশীয় উদ্যোক্তা বা শেয়ারবাজারে বিক্রি করতে হবে।
নতুন নীতিমালা কী বলছে?
বিদেশি বিনিয়োগ সীমা:
মোবাইল অপারেটর: সর্বোচ্চ ৮৫%
টাওয়ার ও ফাইবার অবকাঠামো: ৬৫%
আন্তর্জাতিক সংযোগ সেবা: ৪৯%
চারটি বড় লাইসেন্স ক্যাটাগরি চালু হচ্ছে:
অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক সার্ভিস প্রোভাইডার
ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও কানেক্টিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডার
ইন্টারন্যাশনাল কানেক্টিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডার
নন-টেরেস্ট্রিয়াল নেটওয়ার্ক সার্ভিস প্রোভাইডার
নতুন তালিকাভুক্তি: টেলিকম-এনাবলড সার্ভিস প্রোভাইডার
বর্তমান মালিকানা কাঠামো
গ্রামীণফোন: নরওয়ের টেলিনর ৫৫.৮%, বাকিটা দেশীয় উদ্যোক্তা ও শেয়ারবাজারে।
রবি: আজিয়াটা (মালয়েশিয়া) ৯০%, শেয়ারবাজারে ১০%।
বাংলালিংক: ভিওন (দুবাইভিত্তিক) ১০০%।
ভোক্তা সুবিধা হিসেবে যা বলা হয়েছে
অপারেটরদের মধ্যে অবকাঠামো ভাগাভাগি বাধ্যতামূলক।
তিন বছরের মধ্যে ৮০% টাওয়ার ফাইবার নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও দুর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদার।
বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া
অপারেটরদের অবস্থান:
রবি জানিয়েছে, কীভাবে নীতিমালা বাস্তবায়ন হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
বাংলালিংক মনে করে, বাধ্যতামূলক মালিকানা শর্ত বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে।
দেশীয় উদ্যোক্তারা: অভিযোগ করছেন, ছোট ও মাঝারি কোম্পানির সুযোগ কমে যাবে, বড় বিদেশি অপারেটরই লাভবান হবে।
সরকার: বলছে, এতে প্রতিযোগিতা বাড়বে, রাজস্ব সুরক্ষা হবে এবং গ্রাহকরা কম খরচে উন্নত সেবা পাবেন।
বাস্তবায়ন রোডম্যাপ
২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সব অপারেটরকে নতুন কাঠামোয় রূপান্তর করতে হবে।
সূত্র: সমকাল


