রমজানের আগেই নিত্যপণ্যে আগুন, বন্দরে আটকে আমদানি—চাপে সাধারণ মানুষ

রমজানের আগেই নিত্যপণ্যে আগুন, বন্দরে আটকে আমদানি—চাপে সাধারণ মানুষ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো প্রায় এক মাস বাকি থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এরই মধ্যে অস্বস্তি ছড়াতে শুরু করেছে। আমদানি বাড়ানো, পর্যাপ্ত এলসি খোলা ও সরকারি আশ্বাসের পরও গত এক সপ্তাহে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা, আদা ও রসুনসহ একাধিক পণ্যের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত, বাড়ছে ভোক্তার দুশ্চিন্তা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে ছোলার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে মানভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় পৌঁছেছে। অ্যাংকর ডালের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা কেজিতে। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি মণ চিনি ১০০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় এবং পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার ৯৯০ টাকায়। আদা ও রসুনের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন খুচরা বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রাজধানীর খুচরা বাজারে সয়াবিন তেল, পাম অয়েল ও আদার দাম বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানকে সামনে রেখে এবার গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি পণ্য আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে খোলা এলসির আওতায় আমদানিকৃত পণ্য ইতিমধ্যে দেশে আসতে শুরু করেছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক গতিতে পৌঁছাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বন্দরে শতাধিক জাহাজে ৪৫ লাখ টনের বেশি ভোগ্যপণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গম, ছোলা, ডাল, সয়াবিন, ভোজ্যতেল ও চিনি।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, রমজানের আগে বাজার অস্থির হওয়া এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ব্যবসায়ীরা প্রতি বছরই কোনো না কোনো অজুহাতে দাম বাড়ায়, আর সরকারের কার্যকর তদারকি না থাকায় ভোক্তার ভোগান্তি বাড়ে। একই মত দিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামানও। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত আমদানির পরও দাম বাড়ার অর্থ হলো বাজার ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এনবিআর জানিয়েছে, শুল্ক ও কর যৌক্তিক পর্যায়ে রেখে বাজার স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে তার সুফল না পাওয়ায় রমজানের আগেই নিত্যপণ্যের বাজার সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হয়ে উঠছে।

Related Articles