পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাতভর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ও সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উভয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে।
অভিযোগে জানা যায়, গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে নগরীর বটতলা এলাকায় একটি বিরোধপূর্ণ জমির মীমাংসার জন্য সেখানে যান বিএম কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোস্তফাজির রহমানসহ আরও কয়েক শিক্ষার্থী। বিরোধপূর্ণ ওই ঘরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বসবাস করেন। এ নিয়ে প্রথমে দুপক্ষের মধ্যে কথার কাটাকাটি হয়। পরে মারামারিতে বিএম কলেজের সমন্বয়ক মোস্তফাফিজকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে। তাকে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএম কলেজে সামনে এর বিচার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়। অপরদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সামনে ছাত্রী লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে সেখানেও মানববন্ধন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যায় শহরের বটতলা এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা আটক করে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। পরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা আটক দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন। এরপরই রাতে বিএম কলেজ ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ হয়।
প্রথমে শহরের বটতলা এলাকা, পরে বিএম কলেজ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। শিক্ষার্থীরা বিএম কলেজে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করেন।
গভীর রাতে সেনাবাহিনী আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে ৪টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনাবাহিনী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি জানান, দুপক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


