পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম। এতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মূল্যবান এই ধাতুর দাম ৫ হাজার ১০০ ডলার প্রতি আউন্সের মাইলফলক ছুঁয়েছে। মূলত ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণে ঝুঁকছেন। এতে স্বর্ণের দামে দেখা যাচ্ছে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি, যা নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি করছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৫ হাজার ৮৯ দশমিক ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে স্বর্ণ সর্বকালের সর্বোচ্চ দাম ৫ হাজার ১১০ দশমিক ৫০ ডলার স্পর্শ করেছিল। আর ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও বেড়ে ৫ হাজার ৮৬ দশমিক ৩০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
গত সপ্তাহে দাম ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, এবং চলতি বছর এরমধ্যেই ১৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, মার্কিন প্রশাসন এবং মার্কিন সম্পদের উপর আস্থার সংকটও স্বর্ণের দিকে ধাবিত করছে বিনিয়োগকারীদের। ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু অনিয়মিত সিদ্ধান্ত এই পরিস্থিতি আরও তীব্র করেছে।
গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার এবং কানাডা ও ফরাসি শুল্কসহ আন্তর্জাতিক উত্তেজনাও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পেছনে প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া ডলারের দুর্বলতার কারণে অন্যান্য মুদ্রার ধারকদের জন্য স্বর্ণ আরও সাশ্রয়ী হয়েছে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা এবং শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয় চাহিদার কারণে এ বছর স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।
মেটালস ফোকাসের পরিচালক ফিলিপ নিউম্যান বলেন, স্বর্ণের দামে আরও ঊর্ধ্বগতি দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে গেলে মাঝেমধ্যে দামে কিছুটা পতন আসতে পারে। তবু এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বরং প্রতিবারই শক্তিশালী ক্রয় আগ্রহের কারণে দাম আবার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে।
২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৬৪ শতাংশ বেড়েছিল, যা ১৯৭৯ সালের পর থেকে এর সর্বোচ্চ বার্ষিক লাভ। এর পেছনে নিরাপদ আশ্রয়স্থলের চাহিদা, মার্কিন মুদ্রানীতি শিথিলকরণ, চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক ক্রয় এবং এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড তহবিলে রেকর্ড বিনিয়োগ মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১০৭ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা এর আগে রেকর্ড ১০৯ দশমিক ৪৪ ডলারে পৌঁছেছিল। স্পট প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৮৬১ দশমিক ৯১ ডলারে পৌঁছেছে। আর স্পট প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৬০ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে।
এর আগে শুক্রবার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্পট রুপার দাম প্রতি আউন্স ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। গত বছরে রুপার দাম বেড়েছে ১৪৭ শতাংশ। খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং গতি-নির্ভর ক্রয়ের কারণে মূল্যবান ও শিল্প ধাতুর ভৌত বাজারে দীর্ঘদিনের টানাপড়েন আরও তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।


