পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে জাতিসঙ্ঘ। বিশ্ব সংস্থাটি বলেছে, আমরা বাংলাদেশের মানুষের সাথে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি। আমরা জনগণের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে পূর্ণ শ্রদ্ধা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। এ পর্যন্ত সংঘটিত সব ধরনের সহিংসতার পূর্ণ, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
গতকাল নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্ব সংস্থার উপ-মুখপাত্র ফারহান হক এসব কথা বলেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাংলাদেশের পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না? জাতিসঙ্ঘ ও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না?
জবাবে উপ-মুখপাত্র আরো বলেন, আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলোর সাথে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের স্থানীয় কার্যালয় যোগাযোগ রাখছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ খুব দ্রুততার সাথে পরিবর্তন হচ্ছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়ে এলে কী হয় তা দেখার অপেক্ষায় আমরা রয়েছি।
প্রেস ব্রিফিংয়ের সূচনায় ফারহান হক বলেন, বাংলাদেশ পরিস্থিতির ওপর আমরা গভীর নজর রাখছি। আমরা শান্তি ও সহিষ্ণুতা বজায় রেখে সব পক্ষকে সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানাই। ঢাকাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য শহরে থাকা মানুষদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য আমরা নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও কমান্ডে থাকা কর্মকর্তাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্কটময় এই সময়ে সংশ্লিষ্টরা যাতে দায়মুক্তি না পায় তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পরিষ্কার করে বলতে হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, রাজনৈতিক দল, সামরিক বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একসাথে কাজ করতে হবে
হত্যার সাথে জড়িতদের বিচার হতে হবে : জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেছেন, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা দেশটির আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী মানবাধিকার দ্বারা পরিচালিত হবে। শত শত মানুষ হত্যা ও হাজারো মানুষকে আহত করার সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
গতকাল জেনেভা থেকে দেয়া বিবৃতিতে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার প্রধান আরো বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে ক্ষমতা হস্তান্তর হতে হবে। এটি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, যাতে সব বাংলাদেশীর অর্থবহ অংশগ্রহণ থাকবে। আর কোনো সহিংসতা ও দমন-পীড়ন হতে দেয়া যাবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আইনের শাসন যত দ্রুত সম্ভব নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো জরুরি ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বাছ-বিচারহীনভাবে আটককৃতদের মুক্তি দিতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। মানুষের ক্ষোভের কারণগুলো সুরাহা করতে হবে। তিনি বলেন, গত জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকে সংঘটিত সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার সমন্বিত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচারের প্রতি জনগণের আস্থার জন্য সব তদন্ত স্বাধীনভাবে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য আমার কার্যালয় প্রয়োজনীয় সমর্থন দিতে প্রস্তুত রয়েছে।


