পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবারও মেট্রোরেল চালুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। গত জুলাই থেকেই শুক্রবারে মেট্রোরেল চলাচলের পরিকল্পনা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতি ও সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে পিছিয়ে যায় সে পরিকল্পনা। টানা ৩৭ দিন তো পুরোপুরি বন্ধই ছিল মেট্রোরেল চলাচল।
গত ২৫ আগস্ট থেকে পুনরায় চলাচল করছে মেট্রোরেল। তবে দুর্বৃত্তদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কাজীপাড়া ও মিরপুর ১০ স্টেশন এখনও কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে এ দুটি স্টেশনের নিয়মিত যাত্রীদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে এ দুটি স্টেশনের যাত্রীদের জন্য আপাতত সুখবরই জানিয়েছে ডিএমটিসিএল।
আগামী এক মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কাজীপাড়া স্টেশনটি চালু করার ব্যাপারে প্রস্তুতি শুরু করেছে ডিএমটিসিএল। এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে মিরপুর-১০ স্টেশনটিও চালু করার ব্যাপারে ভাবছে ডিএমটিসিএল।
এদিকে, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনও মেট্রোরেল চলবে—এমন ঘোষণা কয়েক দিনের মধ্যেই দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। আর সেই ঘোষণা আসতে পারে এই সপ্তাহেই। ডিএমটিসিএল সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, আগামী বুধবারই এ বিষয়ে নতুন ঘোষণা আসতে পারে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে ক্ষতিগ্রস্ত কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে মেরামতের কাজ শুরু হয়। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্টেশন চালুর কারিগরি নানাদিক পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। আর শুক্রবার মেট্রোরেল চলাচল শুরু করার জন্য জনবলের কাজের পালা (রোস্টার) প্রায় ঠিক হয়ে গেছে।
গত সপ্তাহে ডিএমটিসিএলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে অন্তবর্তীকালীন সরকার। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ আবদুর রউফ। দায়িত্ব নিয়েই তিনি দ্রুত কাজীপাড়া স্টেশন চালু এবং শুক্রবারে মেট্রোরেল চলাচল শুরু করার ওপর জোর দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবীর খান দায়িত্ব নেওয়ার পর শুক্রবারও মেট্রোরেল চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এরপর ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ শুক্রবার বিকেল তিনটা থেকে রাত পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে।
বিষয়টি নিয়ে ডিএমটিসিএলের নতুন ব্যবস্থাপনা আবদুর রউফ প্রথম আলোকে বলেন, “কাজীপাড়া স্টেশনটি স্থানীয়ভাবে পাওয়া যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও উপকরণ দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত যাত্রীদের স্বস্তি দেওয়া। এ জন্য সাশ্রয়ী তবে নিরাপদ রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা চলছে।”
মেট্রোরেলের কাজীপাড়া স্টেশন এক মাসের মধ্যে চালুর চেষ্টামেট্রোরেলের কাজীপাড়া স্টেশন এক মাসের মধ্যে চালুর চেষ্টা
প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ডাকা আন্দোলন চলকালে ১৯ জুলাই মেট্রোরেলের কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশনে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এর আগে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে ১৭ জুলাই বিকেল থেকে বন্ধ রাখা হয় মেট্রোরেল চলাচল।
এ দুটি স্টেশনে হামলার পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল স্টেশন দুটি মেরামত করে চালু করতে এক বছর লেগে যাবে। তখন বলা হয়েছিল, দুটি স্টেশনের ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পুনরায় তৈরি করিয়ে আনতে এই দীর্ঘ সময় লেগে যাবে।
তবে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মাধ্যমে দ্রুত সময়ে মাধ্যমে এই স্টেশন দুটি চালু করা সম্ভব।
এক্ষেত্রে, তুলনামূলক কম যাত্রীর চাপ রয়েছে এমন স্টেশন থেকে কিছু যন্ত্রপাতি এনে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশন চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডিএমটিসিএল। এছাড়া, মেট্রোরেলের লাইন কমলাপুর পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। সেখানকার স্টেশনের জন্য একই ধরনের যন্ত্রপাতি পাইপলাইনে রয়েছে। সেখান থেকেও কিছু যন্ত্রপাতি আপাতত কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রতিস্থাপনে কথা ভাবা হচ্ছে।


