পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মধ্য চাপড়ায় মরিচ্চাপ নদীপাড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ৮০০ পরিবারের।
এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক দিনে নদী তীরের ৯০ ফুট জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ৫টি বাড়ি আংশিক ভেঙে গিয়ে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মরিচ্চাপ নদীর তীরে থাকা চাপড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান ও শত শত পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। নিয়ম মেনে নদী খনন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে দেখা যায়, আশাশুনি উপজেলার মধ্য চাপড়ায় মরিচ্চাপ নদী ভাঙছে তো ভাঙছেই। দেখার কেউ নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ প্রশাসনের লোকজন আসছেন দেখছেন। দিয়ে যাচ্ছেন আশ্বাস। কিন্তু নদী ভাঙন প্রতিরোধে নেয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ।
আর ৪ দিন পর অমাবস্যার বড় গোন রয়েছে উল্লেখ করে আতঙ্কিত এলাকাবাসী আরও জানান, দু/এক দিনের মধ্যে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে এখনো যাদের বাড়িঘর বেঁচে আছে, তাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
এদিকে ভাঙন না ঠেকালে স্কুল থাকবে না। লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা।
আতঙ্কিত পরিবারের নারীরা জানান, ছেলেমেয়ে নিয়ে ভয়ে রাত কাটাতে হয় তাদের। নদী ভাঙনে বাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ায় কবরস্থানে ঝুপড়ি বেঁধে রয়েছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড আর ঠিকাদার টাকা ভাগাভাগি করে খায়। ভেসে যায় নদী পাড়ের অসহায় মানুষগুলো।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় ভাঙনের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন দায় এড়িয়ে জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা হবে।


