পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পানিতে আবারো প্লাবিত হয়েছে সিলেট নগর ও এর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো।
নগরীর অনেক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সঙ্গেই ঈদ কাটাতে হচ্ছে তাদের।
বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সিলেট মহানগরীর বন্যার্তরা।
অনেকে তাদের কোরবানির পশু দ্বিতীয় তলায় স্থানান্তরিত করেছে। পানি না কমলে কোরবানি করতে পারবেন না বাসিন্দারা, এমন সংশয় দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুরমা ও কুশিয়ারা নদী যথাক্রমে কানাইঘাট (৭৯ সেমি) এবং ফেঞ্চুগঞ্জে (৬৭ সেমি) বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ মাঠে ঈদের প্রধান জামাতও ব্যহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঈদগাহ কমিটির সদস্য আব্দুল মালিক জাকা।
তিনি জানান, প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ লোক সাধারণত ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাতে উপস্থিত হন, তবে এইবার মাত্র মাত্র ২০০-২৫০ জন মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
শাহী ঈদগাহ ছাড়াও হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ মসজিদ, বন্দর বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদ, কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদ ও সিলেট কালেক্টরেট মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর সমস্ত নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। শাহজালাল শহরতলী বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক বাড়ির নিচতলায় পানি ঘাড়ের উচ্চতায় পৌঁছেছে।
অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সুবহানীঘাট, কালীঘাট, কমলগড়, মাছিমপুর, তালতলা, কাজির বাজার, মদিনা মার্কেট এবং আখালিয়া।
শহরের বেশ কয়েকটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও বন্যার প্রভাব পড়েছে। বিমানবন্দর সড়ক, সিলেট-তামাবিল সড়ক, দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে গেছে, কোথাও কোথাও কোমর-গভীর পানি রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৭৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া অফিস।


