হজে যেতে হলে বাধ্যতামূলক ‘হজ ভিসা’, কড়াকড়ি আরোপ সৌদির

হজে যেতে হলে বাধ্যতামূলক ‘হজ ভিসা’, কড়াকড়ি আরোপ সৌদির

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পবিত্র হজ পালনে কঠোর নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি আরব। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ পালনের জন্য নির্ধারিত ‘হজ ভিসা’ ছাড়া অন্য কোনো ভিসা বৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে না।

রবিবার (১২ এপ্রিল) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানায়, সরকারিভাবে অনুমোদিত হজ ভিসাই একমাত্র বৈধ উপায়। এর বাইরে ভিজিট, ট্রানজিট, ওমরাহ বা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে কেউ হজের কোনো আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারবেন না।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সৌদি আরবে অবস্থানরত নাগরিক ও প্রবাসীদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। তাদের ‘নুসুক’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অনুমতি (পারমিট) সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সৌদি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, হজ মৌসুমে ভিজিট বা টুরিস্ট ভিসাধারীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব ধরনের হজ বুকিং শুধুমাত্র অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অবৈধ ও ভুয়া বুকিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করে মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রতিবছর একটি অসাধু চক্র সাধারণ মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে হজে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। এসব কার্যক্রম দমন করতেই আগাম এই নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে।

এদিকে, বাংলাদেশ থেকে চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটের সময়সূচিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ এপ্রিল রাত ২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিমানবন্দর ও হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত হজ ভিসা ছাড়া হজ পালনের চেষ্টা করলে আইনি জটিলতার পাশাপাশি হজের আনুষ্ঠানিকতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রবাসীদেরও নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব ফ্লাইট পরিচালনায় কাজ করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

Related Articles