হেফাজতের পতনে বাংলাদেশ কী হারালো

হেফাজতের পতনে বাংলাদেশ কী হারালো

  • রওনক ইসলাম

হযরত শাহ জালাল ইয়েমেনী বললে যাবেন সিলেট আর হযরত আমানত শাহ বললে চট্টগ্রাম। আসলেই কি তারা সিলেট চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ ছিলেন? না, ইসলামের আলোয় গোটা এক জনপদকে তারা সোনায় মুড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁদের পরে কালের গর্ভে সোনার রং ফিকে হয়েছে অলংকারগুলো ঝুরঝুরে হয়ে মূল্য হারিয়েছে কিন্তু একেবারে অস্তিত্বহীন হয়নি। যুগে যুগে অনেক ওলী বুজুর্গ আলেম সোনার রং এনেছেন প্রলেপ দেয়ার চেষ্টা করেছেন। আমার মতে সেই ধারার আধুনিক নাম “হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ”।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বিবর্তনবাদ, ট্রান্সজেন্ডার মতবাদ,সেক্যুলারিজম, পাঠ্যবই বিতর্ক, নানান বাতিল মতবাদগুলোর মাথাচাড়া দিয়ে উঠার পিছনে আমার মনে হল হেফাজতের পতন নিয়ামক হিসাবে কাজ করছে। তাই কষ্টে দুঃখে ক্ষোভে কিছু একটা লিখতে চাচ্ছি। ভালোমন্দের বিচার পাঠকের হাতে ছেড়ে আল্লাহর নামে শুরু করছি

২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারী চট্টগ্রামের ১০০ মাদ্রাসা নিয়ে শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমাদ শফী সাহেব শুরু করেন “হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ”নামের সুন্দর সূচনা। জ্বালিয়েছেন ধুঁকতে থাকা মুসলিম জনতার আকাশচুম্বী আশার প্রদীপ। হযরত আমানত শাহ’র চট্টগ্রাম থেকে শাহ আহমাদ শফী সাহেবের হেফাজতের ঢেউ আছড়ে পড়ল গোটা দেশে। তাওহিদী জনতা স্বপ্ন দেখেছিল ইসলাম নিয়ে বাঁচার, আহালকে বাঁচাবার। ইসলামকে বুকে ধারণ করে ভালোই আগাচ্ছিল প্রাণের হেফাজত। নিজস্ব স্বকীয়তায় ইসলাম ধর্মকে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছে দেয়া ছিল তার জন্মগত অভিপ্রায়।

কিন্তু পাঠক! এলোমেলো হয়ে গেল সব। দপ করে নিভে গেল কোটি প্রাণের আশার আলো। কারণ হেফাজতের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সব ড্রাকুলার চোখ গিয়েছিল উলটপালট হয়ে। রাম বাম তো আচড় মাত্র কিন্তু হেফাজতকে খুুল্লুমখুল্লা জবাই দিল আরেকদল কিন্তু কারা? পাঠক! মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। আপনাকে নিয়ে উত্তর খুঁজব আজকের এই লেখায়।

বয়োজ্যেষ্ঠ বয়োবৃদ্ধ এক অভিজ্ঞ দূরদর্শী আলেমের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে গোটা ইসলামকে একটা জনপদে ডুবিয়ে দেওয়ার কলংক হেফাজতের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকবে কতযুগ তা নির্ধারণ করবে আগামী প্রজন্ম।

এক.

একটা দেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে যারা কাজ করে তারা দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতক। মৃত্যুদণ্ড ওদের পরম কাঙ্খিত ফল। এর ব্যতিক্রম হলে স্বাধীন দেশের প্রতিটি বস্তু অভিশাপ দেবে সবাইকে। ব্যস, প্রমানিত হলে ঝুলিয়ে দাও ওপারের রশিতে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যারা চাই তাদের আন্দোলন যৌক্তিক। এবার আসি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে, রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী। যুদ্ধাপরাধের পাশাপাশি এরা গোটা ইসলাম ধর্মটাকে কলুষিত করে চিৎ করে রেখেছে। বাংলাদেশে ইসলাম মাজা সোজা করে যে বসবে সে সম্ভাবনা সুদূর পরাহত। নাটক সিনেমা উপন্যাস পাঠ্যবই সবখানে আজ টুপি দাড়ি পাঞ্জাবি লাঞ্চিত। আল বদর আল শামসের প্রেতাত্মারা তো খোলস পাল্টে ফ্রেঞ্চ কাট আর পশ্চিমা স্টাইলে শিফট হয়ে গেছে কিন্তু নবীর ওয়ারিশরা তো ঝেড়ে ফেলতে পারেনা প্রিয় নবীর আদর্শ। তাই গালাগাল আর কটু কথা সব হুজুরদের প্রাপ্য। সুশীল প্রগতিশীল সমাজ ও রাস্ট্রের বাঁকা চাহনি এদের হজম করতে হচ্ছে স্বাধীনতার পর থেকে দেদারসে । তোপদাগা হচ্ছে কওমের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি। কিসের? দেশদ্রোহীর অভিশাপের। নিরপরাধ হয়েও কেন আমি যুদ্ধাপরাধী রাজাকার অভিশপ্ত জাতির ক্যান্সার বহন করে বেড়াব যুগ যুগ ধরে?

চলুন সংবাদ সম্মেলন করে জাতিকে সাফ সাফ জানিয়ে দিই জামাতে ইসলামির সাথে ইসলামের দুরতম সম্পর্ক নেই। এরা ইসলামের নামে ধোঁকাবাজি করছে।
এবং দেশব্যাপী যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার দাবী চলছে এর সাথে আমরা একমত আমরা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিকরাও রাজাকারদের ফাঁসী চাই।
ব্যস কেল্লাফতে। চলো ইসলামের পতাকা উড়াই বাংলাদেশের এলিট থেকে দিনমজুর কামলার ডেরায়।

কিন্তু হল তা?

দুই.

সংবাদ সম্মেলন করলেন একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মজলুম মুক্তিযোদ্ধা আলেম। হৃদয়টা যার দেশমাতৃকার জন্য উৎসর্গিত। জীবনটা যার ইসলামের জন্য বিলিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। তিনি দূরদর্শী ভাবুক চিন্তক। দেশ ও দশের কল্যান যার রগ রেশায় মেশানো। দৃষ্টি তাঁর বিচরিত বহুত বছর পরে। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলে গেলেন শাহবাগের গণ জোয়ারে। স্রোতে গা না ভাসিয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করলেন নিঃসঙ্কোচে নির্ভয়ে। দৃঢ়কণ্ঠে দাবী জানালেন, ” যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই”।

আচ্ছা ভাই! এটা কি অপরাধ? নাস্তিকদের সাপোর্ট করলেন তিনি? এই দাবী করা মানে নাস্তিক হয়ে যাওয়া! গুনাহে কবিরা করে ফেললেন কাফের মুশরিকদের সঙ্গ দিলেন? নাকি তিনি যুগযুগ ধরে সেক্যুলার প্রগতিশীল কবি সাহিত্যিক নাট্যকারদের মুখে চপেটাঘাত করলেন। সরকারের শ্যেনদৃষ্টি থেকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বুকে আগলে নেয়ার চেষ্টা করলেন! গোটা দেশের আপামর জনতার কূদৃষ্টি থেকে বাঁচালেন। বিবেক তুমি কথা বল। অন্ধত্ব আর হিংসার ভাগাড়ে আর কতকাল ময়লা আবর্জনার সাথে গড়াগড়ি খাবে?

যেখানে গোটা আলেম সমাজের সংহতি ও একাত্মতা ঘোষণার কথা ছিল, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সঙ্গ দেয়ার প্রয়োজন ছিল। সেখানে গেলেন মাত্র একজন গোটা জাতির পক্ষ হয়ে! অথচ আপন জাতিই তাকে শূলীতে চড়ানোর সব আয়োজন শেষ করল জামাতে ইসলামির ঈমানী চেতনায় আসতাগফিরুল্লাহ।

তিন.

হযরত শাহ জালাল ও শাহ আমানতের পূন্যভূমিতে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করবে বলে যে হেফাজতের জন্ম সেই হেফাজতের উত্থান হল মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১৩ দফা আদায়ের লক্ষ্যে। মাশাআল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ। ইসলাম জাগবে, ঘুমন্ত জাতিকে জাগাবে। বিপুল উৎসাহে প্রচন্ড তৃষ্ণায় ধুঁকতে থাকা জনপদের জনপ্রিয়তা নিয়ে। হেফাজতের বেলায় তাই হল। দিনমজুর ভ্যান রিক্সা চালক সিএনজি গাড়ি চালক ক্রেতা বিক্রেতা সহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ঝাপিয়ে পড়ল ইসলাম রক্ষার আন্দোলনে। যার যার তরফ থেকে যা কিছু সম্ভব তা দিয়েই শরীক হল আল্লাহকে সন্তুষ্টির লক্ষ্যে। “হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ” ইসলাম রক্ষার জন্য সরকারের উদ্দেশ্যে ১৩ দফা দাবি ছুড়ে দিল। উদ্দেশ্য আদায়ের আন্দোলনে নেমে পড়ল রাজপথে।

যেখানে গোটা আলেম সমাজের সংহতি ও একাত্মতা ঘোষণার কথা ছিল, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সঙ্গ দেয়ার প্রয়োজন ছিল। সেখানে গেলেন মাত্র একজন গোটা জাতির পক্ষ হয়ে! অথচ আপন জাতিই তাকে শূলীতে চড়ানোর সব আয়োজন শেষ করল জামাতে ইসলামির ঈমানী চেতনায় আসতাগফিরুল্লাহ।

১)সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কুরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল করা।

২)আল্লাহ্, রাসুল ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস।

৩)শাহবাগ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক এবং রাসুল এর নামে কুৎসা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের সব অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করা।

৪)ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।

৫)ইসলামবিরোধী নারীনীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা।

৬)সরকারিভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।

৭)মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা।

৮)জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধাবিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং ওয়াজ-নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধাদান বন্ধ করা।

৯)রেডিও-টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি ও ইসলামি কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসিঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস-পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করা।

১০)পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এনজিও এবং খ্রিষ্টান মিশনারিগুলোর ধর্মান্তকরণসহ সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।

১১)রাসুলপ্রেমিক প্রতিবাদী আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার ছাত্র রাসুলপ্রেমিক জনতার ওপর হামলা, দমন-পীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং গণহত্যা বন্ধ করা।

১২)সারা দেশের কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, ওলামা-মাশায়েখ ও মসজিদের ইমাম-খতিবকে হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি দানসহ তাঁদের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করা।

১৩)অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত সব আলেম-ওলামা, মাদ্রাসাছাত্র ও রাসুলপ্রেমিক জনতাকে মুক্তিদান, দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আহত ও নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণসহ দুষ্কৃতকারীদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান।

সবগুলো দাবি যৌক্তিক ও গুরুত্বপূর্ণ। সময় দিলে সরকার ধীরে ধীরে সব দাবি আদায় করে দিত মর্মে আভাস পাওয়া যাচ্ছিল কিন্তু শয়তান এত সহজে বনি আদমকে ছেড়ে দিবে? জল ঘোলা করে তাতে মাছ শিকারে নেমে পড়ল রাতারাতি। ফল যা হল তা কি শুধু কওমি সমাজ বয়ে বেড়াচ্ছে নাকি গোটা ইসলাম সমাজ।সময়ের চিত্র অকপটে তা বলে বেড়াচ্ছে। দুষ্টমি করল কারা? এটাও একটা ভালো প্রশ্ন, আসুন উত্তর খুঁজি।

চার.

মৎস শিকারী ইহুদীরা গজবে শেষ হলেও তাদের সন্তানরা এখনো আছে গজবের অপেক্ষায়। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে এরা বড্ড উস্তাদ। দেশের স্বাধীনতা থেকে হেফাজত সবখানে এদের সরব উপস্থিতি। ওদের কবল থেকে দেশ মুক্ত হলেও হেফাজত আটকে গেছে চোরাবালিতে। যেমন দেখুন হেফাজতের সব ঠিক ছিল কিন্তু শাহবাগের বিপরীতে অবস্থান ভুল ছিল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবীর সময় হেফাজতের চাওয়া পাওয়া ছিল ২য় দফার ভুল। তখন রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দুইয়ে দুইয়ে চার না মিলিয়ে সরাসরি বাইশে চলে যান। আর বাবুনগরী সাহেব তাদের যোগফলে টিক না দিয়ে গুনফলেই টিক দেন। কারণ ততক্ষণে যুদ্ধাপরাধী শক্তি আগুনে ঘি ঢালার ব্যাপার ঘটিয়ে দিয়েছে। পাঠক! বিষয়গুলো আমার বানানো বুলি নয় বরং হেফাজত সেক্রেটারি সাহেবের জবানবন্দি। জানতে হলে আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্টিকেল পড়তে হবে।

২০১৩ সালের ৮ মে প্রথম আলো “বাবুনগরী কাঁদছেন দুষছেন জামাতকে” শিরোনামে লেখাটি ছাপে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু উঠে এসেছে যা আপনার চোখ কপালে উঠিয়ে দিবে। আসুন পড়ি। আর্টিকেলের মাঝামাঝিতে লেখা,

“তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাবুনগরী প্রচুর কাঁদছেন। তিনি বলেছেন, সমাবেশের কোনো নিয়ন্ত্রণই তাঁদের হাতে ছিল না।নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন হেফাজতের অন্তর্গত ১৮-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা। তিনি বলেছেন, যা কিছুই করা হয়েছে, তা বিএনপি-জামায়াতের চাপে পড়ে করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের অন্তর্গত অন্তত চারটি দল হেফাজতে
ইসলামের সদস্য। এগুলো হলো ইসলামী ঐক্যজোট, নেজামে ইসলামী পার্টি, খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম। ১৮-দলীয় জোটের পক্ষে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও হেফাজতের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানান। একই সঙ্গে তিনি ঢাকাবাসীকে অনুরোধ করেন হেফাজতকে সাহায্য করার জন্য।

মনিরুল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে বাবুনগরী দাবি করেছেন, পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় যাঁরা দিনভর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন, তাঁরা হেফাজতের কর্মী নন। এর জন্য তিনি জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেছেন।

গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে বাবুনগরী আরও বলেছেন, তাঁদের মতিঝিলে অবস্থানের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তবে নিয়ন্ত্রণ ১৮-দলীয় জোটের সমর্থকদের হাতে চলে যাওয়ায় তাঁদের কিছু করার ছিল না। হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীকেও ভুল বোঝানো হয়। তাঁরা এর আগে ৬ এপ্রিলের মতো সমাবেশ শেষ করে চলে যেতে চেয়েছিলেন।

কিছু জটিল প্রশ্নের উত্তর হয় চটজলদি। তেমনি একটা ব্যাপার “হেফাজতের পতনে বাংলাদেশ কি হারালো” প্রশ্নে। ধরুন, নতুন গাছে মখমলি খোসায় রসালো আম ঝুলছি অধীর আগ্রহে সবাই অপেক্ষা করছে কখন পাকবে আর মজিয়ে মজিয়ে খাব আম পাকলো গাছ থেকে পাড়া হল কিন্তু যেটাই ছিলা হয় সেটার ভিতরই পোকা। রে রে করে সব গেল ভাড়ে। অযথা পাগল করে গেল তার আগুনে রং।

এখন আমি কি সাহস করে বলতে পারি? হেফাজত হেরে গেল গোটা বাংলাদেশের ইসলাম নিয়ে। বয়োজ্যেষ্ঠ বয়োবৃদ্ধ এক অভিজ্ঞ দূরদর্শী আলেমের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে গোটা ইসলামকে একটা জনপদে ডুবিয়ে দেওয়ার কলংক হেফাজতের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকবে কতযুগ তা নির্ধারণ করবে আগামী প্রজন্ম।

লেখক: সোশ্যাল এ্যাকটিভিস্ট ও সমাজকর্মী

Related Articles