পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার ফুয়াদ শুকরকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইল স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হঠাৎ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বৈরুত। এতে হতাহত হন অনেকে।
রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকা হারেত হ্যারিকে হিজবুল্লাহর সুরা কাউন্সিলকে লক্ষ্য করে এ বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এতে হিজবুল্লাহ কমান্ডার নিহত হওয়ার দাবি করে তেল আবিব।
এ হামলার পর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরাইলের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বৈরুতে সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল্লাহর সবচেয়ে সিনিয়র সামরিক কমান্ডার এবং এর কৌশলগত ইউনিটের প্রধান ফুয়াদ শুকরকে হত্যা করেছে।’
পৃথক আরেকটি ভিডিও বিবৃতিতে ইসরাইলের সামরিক মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, ফুয়াদ শুকর মাজদাল শামসে গণহত্যার জন্য দায়ী ছিলেন। সেখানে শনিবার সন্ধ্যায় একটি ফুটবল মাঠে হিজবুল্লাহ সরাসরি ইরানি ফালাক-১ রকেট ছুড়ে ১২ শিশুকে হত্যা করেছে।’
মূলত, হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নসরুল্লাহর সামরিক উপদেষ্টা মুহসিন শুকরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয় বলে জানায় তারা। তিনি ফুয়াদ শুকর নামেও পরিচিত ছিলেন। হিজবুল্লাহর এ কমান্ডার সশস্ত্র গোষ্ঠীটির অপারেশন সেন্টারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
ইসরাইলের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ।
এ হামলার পর ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দেখা দিয়েছে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা। তবে ইসরাইল যাতে সীমিত আকারে লেবাননে হামলা চালায়, সে জন্য জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। এক্ষেত্রে হিজবুল্লাহ কী জবাব দেয়, তার ওপর নির্ভর করছে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়।
এদিকে, বৈরুতে চালানো এ হামলাকে ইসরাইলের ‘সুস্পষ্ট আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি। এটাকে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে, গত শনিবার (২৭ জুলাই) ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত গোলান মালভূমির মাজদাল শামস এলাকায় একটি ফুটবল মাঠে এক রকেট হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত, আর ৩০ জন আহত হন। এ হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। যদিও গোলান মালভূমির সে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
এ ঘটনার জেরে ইসরাইল-লেবানন উত্তেজনা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। সেই হামলার জবাব দিতে সোমবার (২৯ জুলাই) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন হামলা চালায় তেল আবিব। এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সে হামলার রেশ না কাটতে মঙ্গলবার আবারও বৈরুতে হামলা চালালো ইসরাইলি সেনারা।
সূত্র: বিবিসি, এএফপি, টাইমস অব ইসরাইল


