রাজধানীর সড়ক থাকা ১০০০ ট্রাফিক সহায়তাকারী কি বাদ পড়ছেন?

রাজধানীর সড়ক থাকা ১০০০ ট্রাফিক সহায়তাকারী কি বাদ পড়ছেন?

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চব্বিশের ৫ আগস্টের পরবর্তীতে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশকে সাহায্য করতে নিয়োজিত ট্রাফিক সহায়তাকারী সদস্যদের কার্যক্রম চালু থাকবে কি না? তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে তাদের সঙ্গে সরকারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন করে চুক্তি নবায়ন হবে কি না—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে এই সময়ের পর রাজধানীর সড়কে এই সহায়তাকারী সদস্যরা থাকবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর আটটি ট্রাফিক বিভাগে প্রায় এক হাজার ট্রাফিক সহায়তাকারী সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারা প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা ডিউটি করে দৈনিক ৫০০ টাকা ভাতা পেতেন। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশের সহায়তা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকজন সহায়তাকারী সদস্যের বিরুদ্ধে সিএনজিসহ অন্যান্য চালকদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ডিএমপির তদন্তে কিছু অভিযোগের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। এছাড়া তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার তাদের প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর রাজধানীর সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি ট্রাফিক সহায়তাকারী হিসেবে বিভিন্ন স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হয়। বর্তমানে প্রতিদিন দুই শিফটে প্রায় এক হাজার সহায়তাকারী সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজধানীবাসীকে সচেতন করতে ওই বছরের ২১ অক্টোবর থেকে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে ‘ট্রাফিক পক্ষ’ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে পুলিশের পাশাপাশি সড়কে কাজ করার জন্য এক হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে ২৯১ জন শিক্ষার্থী যুক্ত হন। বর্তমানে এ সংখ্যা বেড়ে এক হাজারে পৌঁছেছে।

তাদের চুক্তির মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হলেও সবশেষে চুক্তির সময় শেষ হতে চললেও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনা এবং বিকল্প হিসেবে সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য সম্পৃক্ত করা– সবকিছু মিলিয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। ফলে ২৮ তারিখের পর রাজধানীর সড়কে তাদের দেখা যাবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র জানান, ট্রাফিক সহায়তাকারীদের সঙ্গে সরকারের চুক্তি শেষ হচ্ছে শনিবার। তাদের এক্সটেনশন নিয়ে এখনও সরকার সিদ্ধান্ত জানায়নি।

সূত্র আরও জানায়, ট্রাফিক সহায়তাকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট দিয়ে সরকার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করার জন্য ভাবছে। এজন্য হয়তো তাদের সঙ্গে চুক্তিকৃত মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।

Related Articles