পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের ছাদে বিধ্বস্ত হওয়া প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানটি ছিল চীনে তৈরি এফ-৭ বিজিআই। এটি মূলত চীনের চেংদু জে-৭ যুদ্ধবিমানের একটি রপ্তানি সংস্করণ, যা আবার সোভিয়েত ইউনিয়নের বিখ্যাত মিগ-২১ এর লাইসেন্সড সংস্করণ। যুদ্ধবিমানটি তৃতীয় প্রজন্মের হলেও এটি এখন পুরনো প্রযুক্তির বলে ধরা হয়, তবে প্রশিক্ষণ ও সীমিত যুদ্ধ মিশনের জন্য এখনো ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বাংলাদেশ, চীন, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশের আকাশ প্রতিরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এ সিরিজের বিমানগুলো। বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০১৩ সালে এফ-৭ বিজিআই সংগ্রহ করে, মোট ৩৬টি। চীন ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশকে নতুন প্রযুক্তির জে-১০ যুদ্ধবিমান প্রস্তাব করলেও তা গৃহীত হয়নি। বরং বছর দুয়েক আগে চীন সরকার নিজ দেশে এফ-৭ সিরিজের বিমান বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেয়, দুর্ঘটনার কারণে।
বাংলাদেশে এ মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে অতীতেও দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। দুর্ঘটনা এবং সীমিত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মূলত কম বাজেটে আধুনিক ফ্যাসালিটিজ পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ এই বিমান সংগ্রহ করেছিল। তবে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের পর চীন আর এই মডেলটি উৎপাদন করেনি।
এফ-৭ একটি অল-ওয়েদার ইন্টারসেপ্টর, যা যেকোনো আবহাওয়ায় যুদ্ধ চালাতে সক্ষম। ডেল্টা-আকৃতির ডানার জন্য এটি দ্রুত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে এবং শব্দের চেয়ে বেশি গতিতে উড়তে পারে। তবে সীমিত ফুয়েল ক্যাপাসিটির কারণে এটি শুধু নির্দিষ্ট এলাকা প্রতিরক্ষায় কার্যকর।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিমান ব্যবহারের যৌক্তিকতা ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যেন ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি হালনাগাদ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভাবিয়ে তোলে — সেটাই জাতির প্রত্যাশা।


