ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে : প্রধান উপদেষ্টা

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে : প্রধান উপদেষ্টা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের নতুন রাষ্ট্রদূত বোরিস ভ্যান বোমেল গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, বাণিজ্য ও কৃষি এবং রোহিঙ্গা মানবিক সঙ্কটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূতকে জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

রাষ্ট্রদূত বোমেল বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য তার দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ দল এ সপ্তাহে বাংলাদেশে আসছে এবং নেদারল্যান্ডস এ মিশনকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করছে।

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অংশ হিসেবে পানি ব্যবস্থাপনাও আলোচনায় আসে। অধ্যাপক ইউনূস স্মরণ করিয়ে দেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও উপকূলীয় নিম্নভূমি সুরক্ষায় ডাচ অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আমরা একসাথে অনেক কিছু নির্মাণ ও শেখার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি।’ রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন অগ্রগতি, বিশেষ করে সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রফেসর ইউনূস বর্তমানে কক্সবাজারে বসবাসরত এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য বাড়তি ডাচ-সহায়তা কামনা করেন। তিনি জানান, অর্থসঙ্কটের কারণে চলমান মানবিককার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে। এ সময় তিনি রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন যে ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিউ ইয়র্কে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, এ সম্মেলন আন্তর্জাতিক সমর্থন জাগ্রত করবে এবং শরণার্থী শিবিরে মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড়ে সহায়ক হবে।

রাষ্ট্রদূত বোমেল সঙ্কটটির তাৎপর্য স্বীকার করে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো বেশি মনোযোগের দাবি রাখে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, চলমান অন্যান্য ভূরাজনৈতিক সঙ্ঘাতের কারণে বৈশ্বিক মনোযোগ কিছুটা বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

বৈঠকে সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশকে এখনই পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে হবে, যাতে দেশ টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাতে অ্যানথ্রোপোসিন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান কার্ল পেজ ও তার সহকর্মীদের সাথে এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল থাকার সামর্থ্য রাখে না। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে বাংলাদেশকে গুরুত্বসহকারে বিকল্প পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বিবেচনা করার, যার মধ্যে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অন্যতম।

গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের ভাই কার্ল পেজ পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং হাইব্রিড সিস্টেমে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন, যা নির্ভরযোগ্য, শূন্য-কার্বন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বার্জ-ভিত্তিক পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরগুলো সাশ্রয়ী, কম রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতকে কয়েক দশক ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। পেজ বলেন, পারমাণবিক শক্তি আজ আর বিশ্বব্যাংকের মতো বড় উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থাগুলোর কাছে নিষিদ্ধ বিষয় নয়। ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ ইতোমধ্যেই তাদের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে এ প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, উদ্ভাবনে বাংলাদেশের শক্তিশালী রেকর্ড রয়েছে। তাই দেশটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির রূপান্তরে নেতৃত্ব দিতে পারে।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি একটি নতুন জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি প্রণয়ন করেছে। এতে সৌর জ্বালানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক বিকল্প নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কঠোর গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই অপরিহার্য। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই এসব সুযোগ অনুসন্ধান করব। তবে প্রতিশ্রুতিশীল এসব প্রযুক্তি নিয়ে গভীর গবেষণা দরকার।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সরকারের সিনিয়র সচিব ও এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

ইউপিইউ কাউন্সিলে বাংলাদেশ পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন

ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের (ইউপিইউ) প্রশাসনিক কাউন্সিলে (সিএ) বাংলাদেশ পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় এ তথ্য জানায়।

বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ইউপিইউ কাউন্সিলের নির্বাচনে বাংলাদেশ ১৫৭ ভোটের মধ্যে ৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়। ১০ সদস্যের মধ্যে নবম স্থান অর্জন করে দেশটি। ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চার বছরের জন্য কাউন্সিলের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ।

সূত্র: বাসস

Related Articles