বিদেশি অপারেটর নয়, ৪২ কোটি টাকায় এনসিটি চালাবে চট্টগ্রাম বন্দর!

বিদেশি অপারেটর নয়, ৪২ কোটি টাকায় এনসিটি চালাবে চট্টগ্রাম বন্দর!

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিদেশি অপারেটর নয়, আগামী ছয় মাস বহুল আলোচিত এনসিটি টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরকে দিয়েই পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর টার্মিনাল পরিচালনার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে প্রতি মাসে ৭ কোটি হিসাবে ৬ মাসে ৪২ কোটি টাকা খরচের জন্য সরকারের কাছে অনুমতি চেয়ে চিঠিও দিয়েছে বন্দর।
বিদেশি অপারেটর নয়, ৪২ কোটি টাকায় এনসিটি চালাবে চট্টগ্রাম বন্দর!

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে বন্দর চেয়ারম্যানের পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল-এনসিটি আগামী ৬ মাস চট্টগ্রাম বন্দরকে দিয়ে পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর এই টার্মিনাল পরিচালনার জন্য প্রতিমাসে ৭ কোটি হিসাবে ৬ মাসের জন্য ৪২ কোটি টাকা খরচের অনুমতি নিতেই লেখা হয়েছে এই চিঠি। আইন অনুযায়ী ৫ কোটি টাকার বেশি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।

বহুল আলোচিত এই টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পণ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে উত্তপ্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। চলতি বছরের ৬ জুলাই বর্তমান টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ার টেকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি অপারেটর এই টার্মিনালের দায়িত্ব নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়া হলে বন্দর ব্যবহারকারীসহ রাজনৈতিক দলগুলো এই এনিয়ে আন্দোলন শুরু করে।

উত্তেজনা এড়াতেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। রিলায়েন্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদ আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যদি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে না দিয়ে নিজেরা দক্ষভাবে একটি সিস্টেম পরিচালনা করতে পারে, তাহলে সেটিই হবে সক্ষমতার বড় প্রমাণ।

চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া ৩২ লাখ কন্টেইনারের মধ্যে ৪৪ শতাংশ এককভাবে পরিচালনা হয় এনসিটি থেকেই। যে কারণে বন্দরের ১৮টি অত্যাধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই স্থাপন করা হয়েছে এখানে। একযোগে চারটি জাহাজ ভেড়ার সক্ষমতা সম্পন্ন এই টার্মিনালে রয়েছে একাধিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেনও।

বাকি ৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন রয়েছে ৩টি জাহাজ ভেড়ানোর সক্ষমতা সম্পন্ন সিসিটিতে। সেখানে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে ৩৭ শতাংশ। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি শফিকুল আলম জুয়েল বলেছেন, সেন্ট্রাল কনটেইনার মুভমেন্ট মনিটরিং সিস্টেম (সিকিএমএস) যদি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে চট্টগ্রাম বন্দর সহজে এটির মাধ্যমে অপারেশন চালাতে পারবে।

এনসিটির মাধ্যমে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সচল রাখতে স্বল্প সময়ে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করে অপারেটর নিয়োগ দেয়া সম্ভব না হলেও এ নিয়ে বন্দরকে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন বন্দরের এই সাবেক কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ জাফর আলম বলেন, ‘ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে সবাই চাইবে যাতে পণ্য সময়মতো খালাস হয়। নতুন পরীক্ষার নামে যেন খালাস প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়।’

৫৭০ কোটি টাকা খরচ করে ১ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের এই নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণ কাজ ২০০৭ সালে শেষ হলেও নানামুখী জটিলতায় ৩ বছর এখানে অপারেটর নিয়োগ দেয়া যায়নি।

পরবর্তীতে অপারেটরের দায়িত্ব পায় সাইফ পাওয়ারটেক। অথচ বন্দরের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা খরচ করে এই অত্যাধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন স্থাপন করা হয়েছিল।

Related Articles