২ ডেপুটি গভর্নর নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে ফের অস্থিরতা

২ ডেপুটি গভর্নর নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে ফের অস্থিরতা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার ও হাবিবুর রহমান স্বপদে বহাল থাকায় আবারো অস্থিরতা বিরাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা ভবনের সামনে তাদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, দুই ডেপুটি গভর্নরসহ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কিছু কর্মকর্তা স্বপদে থাকায় আর্থিক খাতের সংস্কার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নূরুন নাহার ও হাবিবুর রহমানকে পদত্যাগ করতে হবে। শীর্ষপদ থেকে আওয়ামী দোসরদের সরাতে হবে। এজন্য তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন গভর্নরকে।

সকালে কর্মকর্তারা গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে দেখা করে দুই ডেপুটি গভর্নরকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে আলটিমেটাম দেন। সেখান থেকে বের হয়ে পরে সর্বদলীয় বিক্ষোভের ডাক দেন।

বিক্ষোভে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ বছরে ব্যাংকখাতে যে অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে, তা আমাদের সামনে হয়েছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেষ্টা করা হলে বদলিসহ বিভিন্নভাবে হেনেস্তা করা হয়েছে। ফলে যারা সৎ ও যোগ্য কর্মী তারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনি। সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ব্যাংকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এতে সহায়তা করেছে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ডেপুটি গভর্নররা। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। নতুন বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে সংস্কার করতে চেয়েছি সেই কাক্সিক্ষত সংস্কার করতে পারছি না। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে যেখানে ছিল সেখানে থেকে তাদের কর্তৃত্ব অব্যাহত রেখেছে। তাই বিগত সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তি নিয়োগপ্রাপ্ত দুই ডেপুটি গভর্নরকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। এ ছাড়া লুটেদারদের সহায়তাকারী কর্মকতাদের দ্রুত বদলি করতে হবে।
ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন বিভাগের পরিচালক মো: বায়েজিদ সরকার বলেন, গত ৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন দাবিদাওয়া দিয়েছিল। সেখানে আগের সরকারের আমলে সব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সবাইকে পর্যায়ক্রমে চলে যেতে হবে। তবে তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। তাই গত ৭ আগস্টের সব দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।

পরিসংখ্যান বিভাগের পরিচালক মো: আনিস উর রহমান বলেন, পরিবর্তিত সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকে বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। এসব বোর্ড থেকে এখন পর্যন্ত আশানুরূপ কোনো সংস্কার দেখতে পাইনি। কারণ এসব ব্যাংকে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তারা অনেকে স্বৈরাচার সরকারের দোসর ছিলেন। সেখান থেকেও তাদের অপসারণ করতে হবে। সহকারী পরিচালক রিদানুল করিম নাহিদ বলেন, গত সরকারের আমলে ব্যাংকখাতে লুটপাট হয়েছে, তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হয়। সরকার পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে কয়েকজন পদত্যাগ করলেও দুইজন ডেপুটি গভর্নরকে সাময়িক সময়ের জন্য রাখা হয়। শর্ত ছিল নতুন ডেপুটি গভর্নর হলে তারা চলে যাবে। কিন্তু এ ডেপুটি গভর্নরদের রাখার জন্য স্বৈরাচারের কিছু দোসর চেষ্টা চালাচ্ছে। এখনো তারা বহাল রয়েছে, শুধু বহাল নয় প্রশাসনিক ও এইচআরে দায়িত্ব নিয়ে বসে আছে। ওই ডেপুটি গভর্নর দোসরদের বাঁচাতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

Related Articles