তিস্তা মহাপরিকল্পনা : বছর শেষে আসছে চীনের বিশেষজ্ঞ দল

তিস্তা মহাপরিকল্পনা : বছর শেষে আসছে চীনের বিশেষজ্ঞ দল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলতি বছর শেষে চীনের বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে আসছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৭৫ কোটি ডলার। এর মধ্যে চীনের কাছ থেকে ৫৫ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি অর্থের জোগান দেবে সরকার। ২০২৬ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে ২০২৯ সালে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সাথে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠকে এ সব বিষয় আলোচনা হয়েছে। গত সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের সময় নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে হাসপাতাল নির্মাণসহ অন্যান্য প্রকল্পের বিষয়েও আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত জানান, গত বছর আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর চীন থেকে বাংলাদেশে ৮০ কোটি ডলারের ওপর বিনিয়োগ এসেছে। ভবিষ্যতে আরো বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত মার্চে প্রধান উপদেষ্টার বেইজিং সফরের সময় তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মে মাসে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় চীনের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা কমিশনে একটি চিঠি দেয়। তাতে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের ঋণ নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাইয়ে চীনা দূতাবাসে চিঠি পাঠায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। চিঠিতে ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’ বাস্তবায়নে চীনের কাছে ৫৫ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ এ প্রকল্পের আর্থিক চুক্তি সই করতে চায়। এ লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে দুই পক্ষ।

পররাষ্ট্র সচিবের সাথে ইয়াও ওয়েনের বৈঠক সম্পর্কে চীনের দূতাবাস গতকাল জানিয়েছে, উভয় পক্ষের মধ্যে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক, বাস্তব সহযোগিতা, গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ এবং অভিন্ন উদ্বেগের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে গভীর মতবিনিময় হয়েছে। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ওয়েন বলেছেন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক মসৃণ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও গভীর বন্ধুত্বের মাধ্যমে উন্নয়নের একটি শক্তিশালী গতি বজায় রেখেছে। দুই দেশের নেতারা যে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছে, তা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে চীন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রবর্তিত গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ (জিজিআই) বিশ্বব্যাপী প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি ‘চীনা সমাধান’। আরো ন্যায়সঙ্গত বৈশ্বিক সুশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অন্যান্য দেশের সাথে জিজিআই কাঠামোর আওতায় সহযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে বাংলাদেশকে স্বাগত জানাই।

পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উদ্যোগে নেয়া গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভকে স্বাগত ও প্রশংসা জানায় বাংলাদেশ। চীনের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে বাংলাদেশ সন্তুষ্ট।

আসাদ আলম সিয়াম বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে ব্যবহারিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে দুই দেশের জনগণের জন্য আরো কল্যাণ নিশ্চিত হয়।

Related Articles