রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করুন : প্রধান উপদেষ্টা

রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করুন : প্রধান উপদেষ্টা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সব ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সকে (এসএসএফ) পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একই সাথে তিনি এসএসএফকে যতটুকু সম্ভব নিরাপত্তার স্বার্থে জনভোগান্তি পরিহার করার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অতীতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিভিআইপি ফ্লাইটের জন্য প্রায় ১ ঘণ্টা সব ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ থাকতো। এতে অনেক ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতো। আমি এই নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছি। ফলে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে আশা করি।

গতকাল বুধবার স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস ইউং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এসএসএফ অন্যান্য বাহিনীর তুলনায় একটি ক্ষুদ্র বাহিনী তবে এর কাজের গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা অনেক বেশি। এ বাহিনী একটি প্রশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল বাহিনী যারা তার ও রাষ্ট্রপতির সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তিনি বলেন, বিগত ১০ মাসে এসএসএফ দেশে-বিদেশে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করেছে। এসএসএফের সার্বিক পেশাদারত্ব এবং আন্তরিকতা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট ও এসএসএফের সব সদস্যকে তার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। বর্তমানে এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৫৭০।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বঙ্গভবনসহ আমার বাসস্থান, কার্যালয় এবং সব ধরনের গমনাগমনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এছাড়াও ঢাকার ভেতরে এবং বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

সম্প্রতি কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসএসএফ অন্যান্য বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে সফলভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য আদান প্রদান খুব সহজ হওয়ার কারণে নিরাপত্তা হুমকির ধরন ও প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। তাই শতভাগ নিরাপত্তা প্রদান করা খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এসএসএস সুষ্ঠুভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এসএসএফ নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করবে এবং সেগুলো মোকাবেলা করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি এসএসএফ যমুনার সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করেছে। এসএসএফ একইভাবে এই কার্যালয়েরও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করবে। পেশাদার বাহিনী হিসেবে উন্নত প্রশিক্ষণ, উন্নত প্রযুক্তি এবং উন্নত মনোবলের সন্নিবেশে দিন দিন আরো উন্নতি সাধন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নিরাপত্তার খাতিরে এসএসএফকে বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে হয় যা অনেক সময় জনভোগান্তি সৃষ্টি করে থাকে। এ ব্যাপারে তিনি এসএসএফকে যতটুকু সম্ভব জনভোগান্তি পরিহার করার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জনবিচ্ছিন্ন না হয়ে বরং জনসংযোগ ও নিরাপত্তার মেলবন্ধনের মাধ্যমেই এসএসএফ তার ওপর অর্পিত সব দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, এসএএফের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও সরঞ্জামাদির আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে, গত বছরের ৫ আগস্ট এই বাহিনীর কিছু যানবাহন ও সরঞ্জামাদির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, যা অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্ষম করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাহিনীর অভিযানিক কার্যক্রম আরো বেগবান ও কার্যকরী করার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক অস্ত্র-সরঞ্জামাদির ব্যবহার এবং দেশে-বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিটি সদস্যের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত এসএসএফ তাদের ১২ বছরের পুরনো বিএইচএফ রেডিও কমিউনিকেশন সিস্টেম পরিবর্তন করে সর্বশেষ মডেলের ইউএইচএফ রেডিও কমিউনিকেশন সিস্টেম সংযোজন করবে, যা তাদের অভিযানিক কার্যক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে। এসএসএফের অত্যাধুনিক ইনডোর ফায়ারিং রেঞ্জের কাজ প্রায় সমাপ্ত ও আগামী মাস থেকে এটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে জেনে তিনি খুশি হয়েছেন। এ ফায়ারিং রেঞ্জের জন্য ভূমি বরাদ্দসহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করার জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

প্রধান উপদেষ্টা এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক বাহিনী, পিজিআর ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের ওপর নির্ভর করতে হয়। এসএসএফের সব সহযোগী বাহিনী ও সংস্থার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে এবং নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, এসএসএফকে একটি অত্যাধুনিক ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে চৌকস অফিসার নির্বাচন ও প্রেরণ করায় আমি সব বাহিনী প্রধানদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে এসএসএফকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদান করার জন্য তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রঘোষিত ভিআইপিদের নিরাপত্তা প্রদানে পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি চারিত্র্যিক দৃঢ়তা, উন্নত শৃঙ্খলা, সততা, দায়িত্বশীলতা এবং মানবিক গুণাবলীর বিষয়সমূহ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে এবং সব ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাদারত্বের সাথে কাজ করে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব:) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তিন বাহিনী প্রধান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব মো: সিরাজউদ্দিন মিয়া প্রমুখ।

Related Articles