নির্বাচন সামনে রেখে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ

নির্বাচন সামনে রেখে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : স্ট্রাইকিং ফোর্সে থাকবে ৬০ হাজার সেনা: দেড় লাখ পুলিশকে সেপ্টেম্বর থেকে প্রশিক্ষণ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপদ ভোট পরিবেশ নিশ্চিত করতে ৬০ হাজার সেনা সদস্যকে মাঠে নামানো হবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। পাশাপাশি, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে সেপ্টেম্বর থেকে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিয়ে ব্রিফিংয়ে সহায়তা করেন।

সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা, থাকবে ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা : ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ৬০ হাজার ট্রুপস নির্বাচনকালীন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। তাদের ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা থাকবে। ৫ আগস্টের পর থেকেই তারা মাঠে থাকবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে একটি নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

পুলিশ সদস্যদের ব্যাপক প্রশিক্ষণ: প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্র, ফলাফল পরিবহন ও জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের প্রস্তুতি জোরদার করতে বলেছেন। আইজিপি বৈঠকে জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর- এই তিন মাসজুড়ে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনকেন্দ্রিক ট্রেনিং দেয়া হবে।

প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুতে থাকবে নির্বাচনী আচরণবিধি, ভোটার নিরাপত্তা, সহিংসতা প্রতিরোধ ও ভোটকেন্দ্রে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা।

গোয়েন্দা তৎপরতা ও সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ : শফিকুল আলম বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে কোনো তথ্যগত দুর্বলতা না থাকে এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়।’

এই নির্দেশনার পেছনে রয়েছে বিগত নির্বাচনে দেখা যাওয়া গুজব, সহিংসতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী তৎপরতা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ ভুয়া তথ্য ছড়ায়, তা নিয়ন্ত্রণের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

মিসইনফরমেশন রোধে জাতীয় তথ্যকেন্দ্র : আসন্ন নির্বাচনে ভুয়া তথ্য, গুজব ও অপপ্রচারের আশঙ্কায় গঠিত হতে যাচ্ছে ‘ন্যাশনাল ইনফরমেশন সেন্টার’। এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনকালীন মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট দফতর ও জনসাধারণকে অবহিত করা হবে।

এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, নির্বাচনের সময় সামাজিক শান্তি বজায় রাখা এবং ভোটারদের আস্থা রক্ষা করা।

মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ : প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিটি জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

উপ-প্রেসসচিব আজাদ মজুমদার বলেন, ‘জেলা পর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি জানার জন্য সিচুয়েশন রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হটস্পট এলাকা চিহ্নিত করে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন, সেই সুপারিশ চাওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই রিপোর্টগুলোর ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুবিধা হবে এবং নির্বাচনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগাম নিরাপত্তা জোরদার করা যাবে।’

প্রশাসনে রদবদল আসন্ন : ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনে প্রয়োজনীয় রদবদলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এটি হবে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে।

আজাদ মজুমদার বলেন, ‘প্রশাসনের রদবদল হবে, তবে সর্বত্র নয়, যেখানে প্রয়োজন সেখানেই। এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে পরামর্শ করেই কার্যকর করা হবে।’

প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ : বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনী ও পুলিশকে একযোগে সক্রিয় রাখার এই পদক্ষেপ আগামী নির্বাচনে সহিংসতা রোধ, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ দিবস ৫ আগস্ট ঘিরে সঙ্ঘাতের শঙ্কা মাথায় রেখেই এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

এ ছাড়া বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, বিরোধী প্রার্থীদের বাধা, সহিংসতা ও কম ভোটার উপস্থিতি যে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, তা মোকাবেলায় এবার দৃঢ় প্রস্তুতির পথে হাঁটছে অন্তর্বর্তী সরকার।

Related Articles