সুনামগঞ্জে পানিবন্দি কয়েক হাজার মানুষ

সুনামগঞ্জে পানিবন্দি কয়েক হাজার মানুষ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদী তীরবর্তী এলাকা ও নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মে) সকালে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এরইমধ্যে প্লাবিত হয়েছে পৌর শহরের উত্তর আরপিননগর, সাহেববাড়ি ঘাট, বড়পাড়া, পুরানপাড়া এবং বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও দোয়ারা বাজারসহ চারটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সুনামগঞ্জের মানুষ। শহরের পাশ দিয়ে যাওয়া সুরমা ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা সীমান্তবর্তী পাহাড়ি নদীগুলোর পানি কূল উপচে প্রত্যন্ত এলাকায় প্রবেশ করায় নদী তীরবর্তী এলাকা ও জেলার সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর এবং তাহিরপুরের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

অনেকে আবার বানের পানিতে ঘর ভেসে যাওয়ায় রাস্তায় ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। কেউবা আবার কষ্টের ধান যাতে ভেসে না যায় সেজন্য রাস্তার কিনারায় রেখেছেন। তবে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে যাওয়া তিনটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষ গবাদিপশু নিয়ে সব চেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

এদিকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের উত্তর আরপিননগর, সাহেববাড়ি ঘাট ও বড়পাড়া, পুরানপাড়া এলাকার চলাচলের সড়ক এবং কিছু নিচু ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। পানিবন্দি মানুষ জানান, পাহাড়ি ঢলের পানি ঘরের ভেতরে থাকায় রান্নাবান্না করার সুযোগও নেই। চুলাও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ছেলে মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছেন তারা। শুধু তাই নয়, পাহাড়ি ঢল এসে গবাদিপশুর সকল গোখাদ্য ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।

পানিবন্দি খায়রুন নেছা বলেন, ‘ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে যাওয়ায় রান্না করার চুলা তলিয়ে গেছে। এখন রান্নাবান্না কিছুই করতে পারছি না।’ রাকিব বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলের পানিতে ঘর বানের পানিতে ভেসে গেছে। অনেক ধানও ভেসে গেছে। রাস্তার পাশে বাকি ধান এনে রেখেছি।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, ‘মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *