পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সম্প্রতি বন্যায় সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার সব ধরনের শাক-সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এর ফলে রাজধানীতে বিভিন্ন জেলা থেকে আগের তুলনায় কম আসছে শাক-সবজি। এ কারণে গত কয়েক দিনে এসব জিনিসের দাম বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে চালের বাজারও কিছুটা বাড়তি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজার পরিদর্শনের পর দেখা যায়, বেশ কিছু সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা। একই সঙ্গে পেঁয়াজ ও আলুর দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে চালের দাম স্থিতিশীল ছিল পাইকারি ও খুচরা বাজারে। কিন্তু এ সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে দু-তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে মুরগি ও রসুনের দাম কিছুটা কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যার কারণে এখন বাজারে সবজি ও চালের সরবরাহ কিছুটা কম। তাই দাম কিছু বাড়ছে। তবে ঈদের পর সবজির দাম আরো বাড়তে পারে।
বাজারে চালের সরবরাহ বাড়াতে এবং স্থিতিশীলতা আনতে আগামী চার মাসের জন্য চাল আমদানির ওপর শুল্ক কমিয়েছে সরকার। তার পরও বাড়ছে চালের দাম। অন্যদিকে বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় পেঁয়াজ আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
চালের বাজার নিয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ঢাকা রাইস এজেন্সির ব্যবসায়ী মো. সায়েম বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের চালের দাম প্রতি কেজিতে দু-তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে এখন মোটা চাল (স্বর্ণা ও আটাশ) সরবরাহ কম থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে, যার কারণে সামনে মোটা চালের দাম আরো বাড়তে পারে। মোটা চাল স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫ টাকায় আর আটাশ চাল ৫৪-৫৫ টাকায়। চিকন চাল (মিনিকেট) প্রতি কেজি ৬৪ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। নাজিরশাইল চাল প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ’
বন্যায় বাজারে শাক-সবজির সরবরাহ কমায় প্রতিদিনই বাড়ছে দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে এসবের দাম বেড়েছে। গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে বেগুন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, টমেটো ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটোল ও কাঁকরোল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, চায়না গাজর ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৬০ টাকা, চালকুমড়া প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও শসা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। পেঁয়াজ কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী রবিউল আওয়াল বলেন, ‘বন্যার কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি এখন কারওয়ান বাজারে কম আসছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজি কম থাকায় দাম কিছু বেড়েছে। ’
জোয়ারসাহারা বাজারের মেসার্স সিয়াম স্টোরের ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়লেও রসুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। দেশি রসুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন মানভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ডালের দাম। মোটা ডাল প্রতি কেজি ১১৫ টাকা আর চিকন ডাল দেশি ১৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সরবরাহ কমায় মাছের দামও কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছ বিক্রেতারা বলছেন, বন্যায় বিভিন্ন স্থানে ভেসে গেছে মাছের ঘের। মাছের বাজারে এর প্রভাব কিছুটা পড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৫৫ টাকায়।


