খালেদা জিয়ার জামিন: ৩৮০ পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ জমা দুদকের

খালেদা জিয়ার জামিন: ৩৮০ পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ জমা দুদকের

আদালত প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের ৩৮০ পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

রোববার দুপুরে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে এ সারসংক্ষেপ দাখিল করা হয়।

এর আগে গত ১৯ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ।

দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে এবং পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে আসামিপক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন আদালত।

একই সঙ্গে এ আপিল শুনানির জন্য ৮ মে দিন ধার্য করে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

গত ৩ এপ্রিল এ সংক্রান্ত আদেশের কপি মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। ৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিটি লিখিছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। এতে একমত হয়ে প্রধান বিচারপতিসহ অন্য বিচারপতিরা স্বাক্ষর করেছেন। তারা হলেন- বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

আদেশে আদালত বলেছেন, ‘জামিন দিয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সেটি মঞ্জুর করার মতো কারণ (মেরিট) আমরা পেয়েছি। তাই দুটি আপিলের অনুমতি দেয়া হল এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করা হল। আপিলকারীদের দুই সপ্তাহের মধ্যে মামলার সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলা হল।’

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর দুদক আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান যুগান্তরকে বলেছিলেন, ‘আপিল বিভাগ দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমরা আগামী রোববারের মধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেব।’ এর পর আজ ৩৮০ পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ জমা দেয়া হয়।

গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে তা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক। ওই দিন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর জামিন আদেশ স্থগিত না করে আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

এরপর ১৪ মার্চ চার মাসের জামিন দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। ওই সময়ের মধ্যে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত আপিলের আবেদন (লিভ টু আপিল) করার নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী লিভ টু আপিল করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অর্থদণ্ডের টাকা প্রত্যেককে সমান অঙ্কে প্রদান করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ের পর থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *