পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কানাডায় ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত আবাসিক স্কুলে আদিবাসী শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।
সোমবার (২৫ জুলাই) দেশটিতে পৌঁছে এ ঘটনার জন্য তিনি ক্ষমা চান বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আলবার্টার মাস্কওয়াসিসে যান পোপ ফ্রান্সিস। সেখানে এরমিনস্কিন ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের সাবেক স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি।
জানা গেছে, শিশু নির্যাতনের ওই ঘটনায় সমবেদনা জানানো এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য তিনি সেখানে হাজির হন।
তিনি বলেন, “আমি এখানে এসেছি, কারণ আমার অনুশোচনামূলক তীর্থযাত্রার প্রথম ধাপটি হলো আবারও ক্ষমা চাওয়া, আবারও আপনাদের এটা জানানো যে, আমি গভীরভাবে দুঃখিত।”
তিনি আরও বলেন, “কানাডার আদিবাসী স্কুলে যা ঘটেছিল সেটি খ্রিস্টানদের ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এটি ছিল একটি বিপর্যয়কর ত্রুটি। আদিবাসীদের বিরুদ্ধে অনেক খ্রিস্টানদের সংঘটিত মন্দ কাজের জন্য আমি বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
প্রসঙ্গত, ১৮৬৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক আদিবাসী শিশুকে “সভ্য” করে তোলার নামে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে চার্চ পরিচালিত ১৩০টিরও বেশি স্কুলে পাঠানো হয়। কানাডার সরকার ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ (গির্জা) এসব স্কুল পরিচালনা করতো। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি চর্চার অনুমতি ছিল না। এসব স্কুলে অনেক শিশুই নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হয়, এসব স্কুলে থাকার সময়ে প্রায় ছয় হাজার শিশুর মৃত্যু হয়। আবাসিক স্কুলগুলোর অব্যবস্থাপনাকে এর বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়।
২০২১ সালের মে মাসে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার কামলুপস এলাকার একটি পুরনো আবাসিক স্কুলের ভবন থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার হয়। এসব শিশু আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ান বলে জানা যায়। ওই স্কুলটি ১৯৭৮ সালে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
গত বছরের জুনে সাসকাচেওয়ান প্রদেশের পুরনো একটি আদিবাসী আবাসিক স্কুলে আরও ৭৫১টি কবরের সন্ধান মেলে।
দুই গণকবরে প্রায় এক হাজার দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় চার্চ পরিচালিত আবাসিক স্কুলে আদিবাসী শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা নতুন করে সামনে আসে।


