পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাবা ও ছেলে-মেয়ের মৃত্যুকে ‘দুর্ঘটনা’ বলছে পুলিশ। এই তিনজনের মৃত্যুর পেছনে বিষক্রিয়া কিংবা কারো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এসব তথ্য জানান সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং নিহত তিনজনের কক্ষে পাওয়া বিভিন্ন আলামত পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ বিষক্রিয়ার কিছু পায়নি।’
তবে কেমিক্যাল অ্যানালাইসিসের প্রতিবেদন এখনো পুলিশের কাছে আসেনি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেটি সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক বোর্ড নির্ধারণ করবে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ বিষক্রিয়াজনিত কোনো কিছুর উপস্থিতি পায়নি।’
এসপি ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে দেখা গেছে, এটা একটা দুর্ঘটনা। প্রবাসীরা ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তারা ব্যক্তিগতভাবে জেনারেটর ব্যবহার করতেন। সাধারণত জেনারেটর বাড়ির বাইরে চালানো হয়। তবে ওই প্রবাসী পরিবার জেনারেটরটি তাদের ফ্ল্যাটের ভেতরে চালিয়েছিলেন। এতে জেনারেটরের ধোঁয়া কোনোভাবে ওই কক্ষে প্রবেশ করেছিল।’
পুলিশের তদন্তকালে পুলিশ সুপার জেনারেটর চালিয়ে নিজে ওই কক্ষে সাত মিনিটের বেশি অবস্থান করতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন। পুলিশ সুপার বলেন, ‘জেনারেটর ঘরের মধ্যে থাকার কারণে ধোঁয়ায় টিকে থাকা যাচ্ছিল না। ওই প্রবাসী পরিবারের সঙ্গে সমাজে, বাড়িতে জায়গা-সম্পত্তি কিংবা অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ে কারো কোনো বিরোধ নেই। পরিবারটি নিছক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এখন আমরা ওসমানী হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি। মেডিক্যাল বোর্ড কয়েক দিনের মধ্যে যে সিদ্ধান্ত জানাবে, সেটি চূড়ান্ত হবে।’
চলতি বছরের ২৬ জুলাই বেলা ১১টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার কক্ষের দরজা ভেঙে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রফিকুল ইসলাম, তার স্ত্রী হোসনারা বেগম (৪৫), ছেলে সাদিকুর রহমান (২৫), মেয়ে সামিরা ইসলাম (২০) এবং ছোট ছেলে মাইকুল ইসলামকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ওসমানীনগর থানার পুলিশ।
পরে তাদের ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রবাসী রফিকুল ও তার ছোট ছেলে মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। স্ত্রী ও অপর ছেলে সাদিকুর সুস্থ হয়ে ৩ আগস্ট বাড়ি ফিরলেও প্রায় ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ৫ আগস্ট মারা যান রফিকুলের ছোট মেয়ে সামিরা ইসলাম।


