দেশবিরোধীদের দেওয়া গুম-খুনের তথ্য সঠিক নয় : তথ্যমন্ত্রী

দেশবিরোধীদের দেওয়া গুম-খুনের তথ্য সঠিক নয় : তথ্যমন্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গণমাধ্যমে ভুল ও অসত্য তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের দায়ে দণ্ডিত। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোনো বক্তব্য বা প্রতিবেদনই সঠিক হয় না।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘মুজিব বর্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে বাংলাদেশের গুম-খুন নিয়ে আলোচনার নিয়ে কথা বলেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘কোনো বিশেষ সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন পাঠানোর পর যদি কোনো রিপোর্ট তৈরি হয়, তবে সেটি হচ্ছে ‘‘ফর ডিমান্ড’’। আমরা দেখেছি, ‘‘অধিকার’’ ও আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সেখানে বিভিন্ন জন ‘‘কনসার্ন’’ ব্যক্ত করেছেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে যারা গুম হয়েছিল বলে কয়েক দিন আগে একটা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। তার মধ্যে ১০ জন ফেরত এসেছে আর ২০ জন হত্যাসহ বিভিন্ন দাগি আসামি। তারা নিশ্চয়ই অনেকে পালিয়ে আছে। আবার কিছু কিছু গুম হয়েছে তখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তালিকার মধ্যে তাদের নামও আছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অধিকার নামের একটি সংগঠন হেফাজতের আন্দোলনের সময় শত শত হেফাজতকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল বলে অন্য দেশের ছবি দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আল জাজিরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরবরাহ করেছিল। পরে সেটি শত শত থেকে ৬১ জনে নেমে এসেছিল। কিন্তু কারও নাম বা পরিচয় দিতে পারেনি। এসব বানোয়াট তথ্যের কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, গ্রেপ্তারও হয়েছিল। সেই সংগঠনের দেওয়া গুম-খুনের তথ্য-উপাত্তও ত্রুটিপূর্ণ। জাতিসংঘ কোন সূত্র থেকে তথ্য নিচ্ছে সেটিই হচ্ছে বড় বিষয়।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যায়। এরপর সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি ও তা আইনে রূপান্তর করে। মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে যখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য বিনা বিচারে হাজার হাজার সেনাবাহিনীর অফিসার ও জওয়ানকে হত্যা করেছে। খালেদা জিয়ার সময় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা হয়েছে, সেটার জন্য গাঁজাখুরি তদন্ত কমিশন করে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে যে, ইসরাইলের মোসাদ এই কাজ করেছে।’

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, রফিকুল ইসলাম সবুজ ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *