পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইরানে দেশজুড়ে রাস্তায় চলমান বিক্ষোভে ‘শত্রুরা’ জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বুধবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বৈঠকে খামেনিকে এ মন্তব্য করতে দেখা গেছে।
সঠিকভাবে হিজাব পরা নিয়ে বিরোধের জেরে পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভ মোকাবেলা করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ইরানের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অন্তত ১০৮ জন মারা গেছে।
খামেনি আগেই বিক্ষোভের দায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়েছিলেন। বুধবার শীর্ষ এই নেতা নতুন করে বলেন, ‘আজ সবাই রাস্তায় চলমান এই দাঙ্গায় শত্রুপক্ষের জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন।’
ইরানের ধর্মীয় এই নেতা আরো বলেন, ‘শত্রুর কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে মিথ্যা প্রচারণা, মানুষের চিন্তা-ভাবনায় প্রভাব বিস্তার, উত্তেজনা সৃষ্টি, অগ্নিসংযোগকারী সামগ্রী ব্যবহারে উসকানি দেওয়া এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা তৈরি করতে শেখানো।’ তবে শত্রুকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেননি তিনি।
খামেনির বক্তব্যের আগে ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, তেহরান ও হরমুজগান প্রদেশে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে এক শরও বেশি মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
খামেনি বলেন, বিক্ষোভে লিপ্ত ‘ব্যক্তিদের কেউ কেউ হয় শত্রুদের দালাল, না হয়…শত্রুদের সঙ্গে জড়িত এবং কিছুসংখ্যক উত্তেজিত সাধারণ মানুষ। ’ তিনি আরো বলেন, ‘শত্রু দালালদের’ সামাল দিতে বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এদিকে গত মঙ্গলবার মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইরানের সানান্দাজে চলমান দমন-পীড়ন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। বুধবার এক বিবৃতিতে অসলোভিত্তিক ইরান মানবাধিকার সংস্থা (আইএইচআর) বলেছে, আন্তর্জাতিক মহলের উচিত জরুরি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কুর্দিস্তানে আরো প্রাণহানি হওয়া ঠেকানো।
- সূত্র : এএফপি


