দীপাবলি : ধোঁয়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন দিল্লির আকাশ

দীপাবলি : ধোঁয়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন দিল্লির আকাশ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শ্যামা পূজা বা কালীপূজা আজ সোমবার (২৪ অক্টোবর)। এই পূজার বিভিন্ন ধরনের আনুষ্ঠানিকতাকে বলা হয় দীপাবলি। আর দীপাবলি আসতেই ভারতে আতশবাজি পোড়ানোর ধুম লেগে যায়। যদিও ভারত সরকার এটি বন্ধ করতে আইন করেছে কিন্তু তা কমানো যায়নি।

আতশবাজি পোড়ানো এবং অবস্থানগত কারণে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এই সময় বেড়ে যায় দূষণ। রবিবার রাতে দিল্লির বায়ু দূষণের গড় মাত্রা ছিল ২৫১ একিউআই। আর সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল ৩২৭। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাস অঞ্চলে দূষণ ছিল সর্বাধিক। স্বাভাবিকের চেয়ে যা বহু গুণ বেশি।

শনিবার এবং রবিবার দিল্লির যে ছবিগুলো প্রকাশ পেয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, সমস্ত রাস্তা ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা।

বায়ুদূষণের মাত্রা মাপা হয় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (একিউআই) সূচকে। এই সূচক অনুযায়ী, ৫০ একিউআই শ্বাস নেওয়ার উপযুক্ত। ৫০ থেকে ১০০ হলো মোটামুটি। এর উপরে যে কোনো বাতাসই বিষবায়ু। ৩০০ থেকে ৪০০ একিউইউ অত্যন্ত বিপজ্জনক। ২০০ থেকে ৩০০ বিপজ্জনক। দিল্লির গড় বায়ু এখন বিপজ্জনক মাত্রায় রয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় অতি বিপজ্জনক।

দিল্লির ভৌগোলিক অবস্থান বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ। বছরের এই সময়ে হঠাৎ আবহাওয়া বদলে যায়। পরিবেশ অতিরিক্ত শুকনো হয়ে যায়। যার ফলে আচমকাই বাতাসে ধুলোর কণা ভেসে ওঠে। তার সঙ্গে গাড়ির ধোঁয়া, পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কারখানার দূষণ এবং ফসলের খেত জ্বালানোর কারণে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে যোগ হয় আতশবাজি পোড়ানো।

দিল্লির পার্শ্ববর্তী হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ এবং পাঞ্জাবে এই সময় ফসলের খেতে আগুন দেওয়া হয়। পুরোনো ফসলের গোড়া পুড়িয়ে সার তৈরি করে নতুন ফসল বোনা হয়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ দূষণ হয়।

দিল্লিতে আতশবাজি পোড়ানো হলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আইন করে আতশবাজি পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি দিল্লি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “দূষণ যথেষ্ট হলেও অন্যবারের চেয়ে এবারের মাত্রা তুলনামূলক কম।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *