পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ডলার-সংকটের পরিস্থিতিতে বিকল্প মুদ্রায় লেনদেন ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি সামনে এসেছে। বড় আলোচনা হচ্ছে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য লেনদেন নিয়ে। আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সুইফট পেমেন্ট নেটওয়ার্ক থেকে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করাসহ একাধিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিকল্প মুদ্রায় লেনদেনের পথ খুঁজছে ঢাকা।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিকল্প মুদ্রায় লেনদেন ব্যবস্থা নিয়ে গত মাসে রাশিয়ায় বাংলাদেশ মিশনে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘসময় ধরে বহাল থাকলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে। এতে নিরাপদ পেমেন্ট সিস্টেম খুঁজে না পাওয়া অব্দি বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক বিধিনিষেধ, বয়কট, অচলাবস্থা এবং সরবরাহ-চেইনে অবরোধ বৈদেশিক আয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে। এছাড়া সেকেন্ডারি স্যাংশনের কারণে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বড় ভয় তৈরি হয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে জাতীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিক বৈঠকও করেছে। তবে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াগত চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতায় আলোচনাটি থেমে আছে।
রাশিয়ার নীতি-নির্ধারকরাও তাদের জাতীয় মুদ্রা রুবেলে বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য একটি বিনিময় ব্যবস্থার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ডলার ও ইউরোর ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন উপায় অবলম্বন করছেন। এর অংশ হিসেবে ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বেশকিছু আন্তর্জাতিক লেনদেনও করছে রুশ ফেডারেশন। ইদানিং তারা চীনা ইউয়ানের দিকেও ঝুঁকছেন।
তবে এসব লেনদেন পরীক্ষামূলক। বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
রাশিয়ায় রপ্তানি করা বাংলাদেশি পণ্যের মধ্যে প্রায় ৯০% তৈরি পোশাক। দুটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম এবং জারা ইতোমধ্যে তাদের ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বেশ কিছু ক্রয়াদেশ বাতিল করা হতে পারে।
পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য বাংলাদেশি পণ্যেরও রপ্তানি কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়ায় রপ্তানি কমতে শুরু করে ঢাকার। ২০২৩ অর্থবছরে এটি ভয়াবহভাবে কমতে পারে। অর্থবছর ২০২২ এ রাশিয়ায় রপ্তানির পরিমান ছিল ৬৩৮.৩০ মিলিয়ন ডলার।
দূতাবাসের প্রতিবেদন অনুসারে, সুইফট নিষেধাজ্ঞার কারণে ইতোমধ্যে জুলাই মাসে নেতিবাচক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫৫.১৬% এ।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে রাশিয়া সফরে গেলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এরপর ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ শুরু করে। টাকা-রুবল লেনদেনব্যবস্থা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করে। ওই বছরেই রাশিয়ার সঙ্গে এ ব্যাপারে একাধিক সভা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে “ট্রেড পেমেন্ট সেটেলমেন্ট মডেল” প্রস্তাব করে।
অন্যদিকে ২০১৯ সালের নভেম্বরে রাশিয়া ফাইন্যান্সিয়াল ম্যাসেজিং সিস্টেম নেটওয়ার্কে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে দেশের ব্যাংকগুলো ওই সময়ে এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে অনাগ্রহ দেখায়। কারণ, ব্যাংকগুলোর বড় লেনদেন আমেরিকার ব্যাংকের সঙ্গে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সোয়াপ সিস্টেমে লেনদেন চালুর প্রস্তাব করে। এরপর বিষয়টি আর এগোয়নি।


