শ্রমিক ধর্মঘটে নৌপথে অচলাবস্থা

শ্রমিক ধর্মঘটে নৌপথে অচলাবস্থা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে সারা দেশে নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান। ঢাকা নদীবন্দরসহ (সদরঘাট) দেশের বিভিন্ন বন্দরে লঞ্চ না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন যাত্রীরা। অনেকে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। কেউ কেউ বিকল্প পথে গন্তব্যে যান। একইভাবে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের পণ্য পরিবহণ বিঘ্নিত হয়েছে।

এ দুই বন্দরের কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এদিকে ধর্মঘট নিয়ে অনড় অবস্থানে মালিক ও শ্রমিক নেতারা। শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবিতে ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ধর্মঘট তুলে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শ্রম মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। আজ নৌযান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছে নৌপরিবহণ অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দুই পক্ষই ছাড় দিলে সহজেই এর সমাধান সম্ভব। আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ধর্মঘট প্রত্যাহার হবে।

তবে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। শ্রমিকরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফিরবেন না।

সূত্র জানায়, মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান যোগাযোগ রাখছেন। বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারাও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই পক্ষই আগের চেয়ে নমনীয় অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে মজুরিসংক্রান্ত একটি কমিটি কাল বৈঠকে বসছে। ওই বৈঠকেই যাতে সমস্যার সমাধান হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।

সকাল থেকে সদরঘাট নদীবন্দর ঘুরে দেখা যায়, কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। অন্যদিনের তুলনায় ঘাট এলাকা অনেকটা ফাঁকা ছিল। এতে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করা যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নৌযান ধর্মঘটের ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না। ফলে অনেকে ঘাটে এসে ফিরে গেছেন। সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে চাঁদপুরগামী লঞ্চে উঠতে সকালে সদরঘাটে আসেন কুলসুম বেগম।

তিনি বলেন, সকাল ৮টার দিকে টার্মিনালে এসে দেখি লঞ্চ বন্ধ। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো লঞ্চ পেলাম না। পরে লঞ্চের লোকজন জানান, লঞ্চ ছাড়বে না। এখন বাসেই যেতে হবে।

নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বলেন, আমাদের দশ দফা দাবিতে ধর্মঘট চলছে। তবে তিনটা দাবির প্রতি আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। এগুলো হলো-শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাশ প্রদানসহ ভারতীয় সীমানায় সব হয়রানি বন্ধ এবং দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ২ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহণ) সংস্থার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামাল বাদল বলেন, আমাদের করার কিছু নেই। শ্রম মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে। শ্রমিক-মালিক সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *