পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ ঘিরে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় না বিএনপি। এ জন্য নয়াপল্টন, তুরাগতীর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে বিকল্প উপযুক্ত জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দিলে সমাবেশ করতে রাজি আছে দলটি। পুলিশও জানিয়েছে, সমাবেশের বিকল্প স্থান নিয়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে।
গত দুই দিনে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হওয়ার পর নয়াপল্টনে সমাবেশ করার অনড় অবস্থান থেকে সরে আসে বিএনপি।
গতকাল রবিবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে কথা বলেন দলের নেতারা। রাতেও পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা। সেখানে বিকল্প জায়গায় সমাবেশ করার ব্যাপারে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশের ব্যাপারে অনড় ছিল। সরকারও সোহরাওয়ার্দীর বাইরে মাঠ দিতে চাইছে না। এমন অবস্থায় সংঘাত এড়াতে বিএনপি বিকল্প মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করছে। ওই নেতা আরো বলেন, বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সৌজন্য দেখিয়েছেন তাঁরা। এর মাধ্যমে সরকারও সমাবেশের মাঠ হিসেবে বিকল্প স্থান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ পেল। এতে সব কুল রক্ষা হবে বলে মনে করেন তিনি।
গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিকল্প উপযুক্ত প্রস্তাব দেওয়া আলোচনা সাপেক্ষে বিবেচনা করব, চিন্তা করে দেখব।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সরকার তাদের সমাবেশ ঠেকাতে ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর দুপুর পর্যন্ত গত পাঁচ দিনে অন্তত এক হাজার ৩১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাতে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবেন না।
ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি এখন সমাবেশের জন্য নতুন স্থান খুঁজছে। বিকল্প কোনো স্থানের প্রস্তাব দিলে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দলটির নেতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন।
ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে গত রাতে বিএনপির নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে বৈঠক করেন মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খান।
বৈঠক শেষে এ্যানি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কোনোভাবেই সমাবেশ করব না, তা স্পষ্ট জানিয়েছি। নয়াপল্টন দিতে না চাইলে বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ নিয়ে সোমবার আবার আলোচনা হতে পারে।


