- আমিনুল ইসলাম কাসেমী
এ যেন স্বপ্নপুরী। এ যেন নুরানী মঞ্জিল। হৃদয়ের টানে হাজির হই প্রতিটি বছর। অপেক্ষায় থাকি কবে আসবে সেই মাহিন্দ্রক্ষণ। আমাকে যেন পাগল করেছে। যার প্রেমসুধায় আমি ব্যাকুল। হৃদয়ের তপ্ত খুন জাগ্রত হয়। বজ্র নিনাদে এগিয়ে যায় আমার দেহখানা। উচ্ছল মন ছুটে চলে তাড়াইলের বেলংকার জামিয়াতুল ইসলাহ ময়দানে। কী অপরুপ সাজে সজ্জিত সে প্রান্তর। ভালোবাসার ডালিখানা যেন সুউচ্চ মিনারায়। পুরো এলাকা জুড়ে খোদাপ্রেমিকদের কোলাহল। বেলংকার কোলজুড়ে যেন চুতুর্দশি পূর্নিমার আলোক্ছটা বেয়ে পড়ে। আবার বসন্তের আগমিণ বার্তা দিয়ে যায় মাওলার আশেকদের অন্তরে।
ফেদায়ে মিল্লাতের খলিফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাতবারাকাতুহুম। তাঁর আহুত ইসলাহী ইজতেমা কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানাধীন বেলংকার জামিয়াতুল ইসলাহ ময়দানে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরও ৩, ৪, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩। আর মাত্র কদিন বাকি। তবে এ ইসলাহী ইজতেমা এক ব্যতিক্রমধর্মী। এর সঙ্গে কোন তুলনা হয় না।
আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব একজন প্রথিতযশা আলেম। দারুল উলুম দেওবন্দের সূর্যসন্তান। আকাবির- আসলাফের অনুগামী এক ব্যক্তিত্ব। সবচেয়ে বড় কথা দেওবন্দীয়্যাত কী এবং কেন? এ ব্যাপারে পরিপূর্ণ সমঝদার মনীষা। সেই মহান ব্যক্তি ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী (রহ.) থেকে খেলাফত-ইজাযাত লাভের পর থেকে তিনি ইসলাহী কার্যক্রমে মনোনিবেশ করেন। উম্মতের ইসলাহ বা সংশোধনের জন্য ময়দানে আত্মোনিয়োগ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় তাড়াইলের বেলংকাতে প্রতিবছর বসে ইসলাহী ইজতেমা।
তিনি যেমন বেমেছাল এক ব্যক্তিত্ব। খ্যাতিমান আলেম। ঠিক তাঁর ইসলাহী মজলিসে শরীক হয় দেশসেরা আলেম এবং বুজুর্গানেদ্বীন। এ দেশের বড় বড় প্রতিষ্টানের মুহাদ্দিস, শাইখুল হাদীস এবং মাদ্রাসার পরিচালকগণ। তাছাড়া বহু মাশায়েখদের থেকে ইজাযতপ্রাপ্ত মনিষা তাঁর ইসলাহী ইজতেমাতে শরীক হয়ে আলো ছড়াতে থাকে।
বড় ভালো লাগে বেলংকার ময়দান। সেখানে না গেলে বোঝা যাবে না। মনে হয় সে স্থানে বরকতের ধারা অব্যহত রয়েছে। কেননা সেখানে তো খোদাপ্রেমিকদের মিলনমেলা। আলেম-উলামাদের অভয়অরোণ্য। বিশাল উলামাদের বহর সেখানে অংশগ্রহণ করে। হয়ত কোনো মাকবুল বান্দার হাত দুখানা মহান পরওয়ারদেগার কবুল করেছেন। যে কারণে বেলংকাতে এখন আল্লাহওয়ালাদের উপচেপড়া ভিড়। জামিয়াতুল ইসলাহেরর বিশাল ময়দান এবং আশেপাশের এলাকাগুলো লোকেলোকারণ্য থাকে। চব্বিশ ঘন্টা সেখানে আমলী কার্যক্রম চলতে থাকে। কেউ অনর্থক বসে নেই। আমলে জুড়ে থাকে সবাই।
সবচেয়ে বড় বিষয়, কোনো লৌকিকতা নেই। বিশেষ করে আল্লামা মাসঊদ সাহেবের এই ইখলাসপুর্ণ কর্মগুলো চোখে পড়ার মতো। যিনি এত বড় আয়োজন করেছেন। কিন্তু তাঁর কোনো পাবলিসিটি নেই। তাঁর বক্তৃতায় যেমন রঙঢঙ নেই। অতি সাধারণ কথা বলে থাকেন। তেমনি তাঁর এই বিশাল মজলিসগুলো লিল্লাহিয়্যাত তথা আল্লাহর জন্য।
আজকাল অধিকাংশ জায়গাতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা নিজস্ব ইজম প্রচার। ইসলাহী ইজতেমাগুলো অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহান আল্লাহর মেহেরবাণীতে আল্লাম মাসঊদ সাহেবের ইসলাহী প্রোগ্রাম যেন খোদাপ্রেমের দ্যুতি ছড়াচ্ছে। যে আলোতে আলোকিত হচ্ছে অসংখ্য ভক্তকুল। যার সুবাতাসে মোহিত হচ্ছে সারাদেশ।
আবারও আমাদের দোরগোড়ায় তাড়াইলের ইজতেমা। এ যেন প্রেমসাগরে সিক্ত হওয়ার পালা। অন্তরাত্মার ময়লা আবর্জনা দূর করার মোক্ষম সময়। ইশকে নববীর আগুনে নিজেকে দগ্ধ করে হৃদয়ের মরীচিকার বিদায়। আবারও যেন খোদাপ্রেমের শরাব পিয়ে বেহুশ হয়ে পড়ে রবে সব। সীরাতে মুস্তাকীমে চলা সহজ হবে। সেই কামনা-বাসনার ইসলাহী ইজতেমা। মহান রবের নিকট কায়মনোবাক্যে মুনাজাত করি।
আল্লাহ তায়ালা করুন। আমিন।
- শিক্ষক ও কলামিস্ট



