ফুটপাতে খাবার বিক্রি বন্ধ চেয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ

ফুটপাতে খাবার বিক্রি বন্ধ চেয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরের হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, মার্কেটের সামনেসহ ফুটপাত ও আশেপাশে নোংরা পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের অস্বাস্থ্যকর মুখরোচক খাবার বিক্রি বন্ধে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন ১০ আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জনস্বার্থে দেশের ১০ আইনজীবীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন নোটিশটি পাঠান।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ মোট সাতজনকে নোটিশটি পাঠানো হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, বেঁচে থাকার জন্য মানুষের খাবার গ্রহণ অপরিহার্য। কিন্তু খাবার যদি হয় অনিরাপদ, তাহলে তা হতে পারে মানুষের নানা রোগসহ মৃত্যুর কারণ। বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ ও মার্কেটের সামনেসহ ফুটপাত ও ফুটপাতের পাশে নোংরা পরিবেশে নানা ধরনের অস্বাস্থ্যকর মুখরোচক খাবার বিক্রি হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রাস্তার খাবার তৈরি ও পরিবেশন করা হয় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে। কিন্তু বাংলাদেশে অধিকাংশ রাস্তার খাবার প্রস্তুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে এসবের কোনো বালাই নেই। দূষিত পানি, ধুলাবালি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ অধিকাংশ রাস্তার খাবারকে করে তুলেছে অনিরাপদ। ফলে যে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন এসব খাবার খান, তারা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। যে সড়ক ও ফুটপাতে এসব খাবার বিক্রি হয়, সেগুলো ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে রাস্তার খাবার দোকানের নিবন্ধন বা অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তার খাবার বিক্রেতাদের তালিকাও নেই।

খাবারের মান তদারকির দায়িত্বে থাকা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমও রাস্তার খাবারের ক্ষেত্রে একেবারেই সীমিত। এই বিষয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘‘রাস্তার খাবার নিরাপদ করতে উদ্যোগ নেই” এবং ৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ‘‘স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে রাস্তার খাবার” শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি, বাংলাদেশে জুতাসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র বিক্রি হয় স্বাস্থ্যকর পরিবেশে। অন্যদিকে খাবার বিক্রি হয় খোলা অবস্থায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটা ২০১৩ সালের নিরাপদ খাদ্য আইনের ২৫, ২৯, ৩৩ ধারার ও ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ২৭, ২৯, ও ৩৬ ধারার পরিপন্থী। তাছাড়া জনস্বাস্থ্যের বিষয়ে সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদে উল্লেখ থাকলেও নোটিশ গ্রহীতারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তাই আইনজীবীরা সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী অনুপ্রাণিত হয়ে জনস্বার্থে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার্থে এ নোটিশ পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন।

নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় নোটিশগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরসহ প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন বলেও উল্লেখ করেছেন আইনজীবীরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *