জুনের আগে কমছে না গ্যাস সঙ্কট

জুনের আগে কমছে না গ্যাস সঙ্কট

নিজস্ব প্রতিবেদক : রমজান মাসের শুরু থেকেই ঢাকা মহানগরীজুড়ে দেখা দিয়েছে গ্যাসের তীব্র সঙ্কট। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুনের প্রথম সপ্তাহে ন্যাশনাল গ্রিডে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেই এই সংকট কমবে। তার আগপর্যন্ত ভুগতে হবে নগরবাসীকে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লে. মীর মশিউর রহমান জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। কাতার থেকে আমদানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ন্যাশনাল গ্রিডে যোগ হলেই এ সমস্যা আর আর থাকবে না। চট্টগ্রামের কিছু অংশে ইতোমধ্যে এই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
কাতার থেকে আমদানী করা ৩০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি বর্তমানে চট্টগ্রামে মজুদ রয়েছে। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস মহেশখালির এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ করা যাবে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যেই চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে সীতাকু- পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করেছেন।

বর্তমানে প্রতিদিন তিতাস গ্যাসের চাহিদা ২০০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু তিতাসের সরবরাহের ক্ষমতা মাত্র ১৬৫ কোটি ঘনফুট। এ কারণেই ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, তাদের উৎপাদন ২৭০ কোটি ঘনফুট অথচ মোট চাহিদা ৩৩০ কোটি ঘনফুট।

লে. মীর মশিউর রহমান মন্তব্য করেন, রমজানে ইফতার তৈরির জন্য গ্যাসের চাহিদা ১৫ শতাংশ বেড়ে যায়। তিনি জানান, রমজানে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গ্যাস ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং রোজার আগে যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও ঢাকার গেন্ডারিয়া, মিরপুর, আদাবর, শ্যামলি, মিরহাজিরবাগ, ইব্রাহিমপুর, গোপীবাগ, ইস্কাটন, পূর্ব রাজাবাজার, মোহাম্মদপুরের খিলজি রোড এবং বাবর রোড, শেওড়াপাড়া, আনসার ক্যাম্প এবং জিগাতলায় গ্যাসের সংকট দেখা গেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *