জমিয়তের পথইফতার, খুশি খুশি রোজাদার

জমিয়তের পথইফতার, খুশি খুশি রোজাদার

কাউসার মাহমুদ : পয়লা রোজা থেকেই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার পথ ইফতার কার্যক্রম। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গাতেই টুল-টেবিল নিয়ে বসে পড়ে জমিয়তের কর্মীরা। আসরের পর থেকেই শুরু হয় তাদের কর্মব্যস্ততা। পথচারীদের মুখে দু’তিনটি খেজুর আর এক গ্লাস পানি পৌঁছাতেই তাদের এ আয়োজন। পবিত্র রমজানে পথচারী রোজাদারদের ইফতার করিয়ে তারা পৌঁছে দিতে চায় ইসলামের সৌহার্দ্য ও উদারতা। সমাজের সর্বত্র দ্বীন প্রচারে আলেমসমাজ ও সাধারণের মধ্যে পুরনো বন্ধনকে জাগিয়ে তোলার এই মহাপ্রয়াস বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার। পথইফতার তার বিভিন্ন উদ্যোগের এক নয়া উদ্যোগ। যেটির কার্যত ফলাফল পাওয়া গেছে প্রথম থেকেই। চারদিনে এসব পথের ড্রাইভার-পথচারীরা চিনে গেছে জমিয়তুল উলামার ‘পথ ইফতার’ কেন্দ্র। যারা চেনেন তারা তো নির্ভার! (ইনশাআল্লাহ) প্রয়োজন পড়লে ওখানে গিয়ে ইফতার করা যাবে। যারা চেনেন না তাদেরকেও চিনিয়ে দেয় বাস, রিক্সা, সি,এন,জি’র ড্রাইভাররা।

প্রতি সন্ধ্যায় এমনই কিছু খণ্ড খণ্ড চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার যাত্রাবাড়ী, ‘পথইফতার’ কেন্দ্রে। মাওলানা শোয়াইব আহমাদ সাদা ধবধবে পাঞ্জাবী পড়া মাওলানা। প্রতিদিন আসরের পরই বসে যান ফিল্টারে ভরা বিশুদ্ধ পানি আর বাক্স ভরা খেজুর নিয়ে। বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার ব্যানারটা সামনে ঝুলিয়ে রাখেন যেন পথচারীদের চিনতে অসুবিধে না হয়।
তকতকে, ঝকঝকে গ্লাসে পানি আর ছোট ছোট প্যাকেটে খেজুর, শসা নিয়ে মানুষকে ডাকতে থাকেন-

আসেন, ভাই! ইফতার করে যান।
আসেন, ভাই! ইফতার করে যান।

আস্তে আস্তে রিক্সাগুলো ভিড়তে থাকে পথের পাশে। ধনি, গরিব, বৃদ্ধ, সারাদিন পরিশ্রমে নুইয়েপড়া সাধারণ মানুষগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এখানটায় এসে। ক্ষীণ স্বরে বলে ‘ভাই এক গেলাস পানি দেন না! ছুটে যায় জমিয়তের কর্মীরা। শোয়াইব ভাইয়ের অস্হিরতা বেড়ে যায়-

এই! এদিকে পানি দাও! ওদিকে খেজুর দাও বলে চলতে থাকে এ ইফতার আয়োজন।

মানুষেরা আসে। ইফতার খায়। দিলভরে দোআ দিয়ে ফেরার পথ ধরে আবার। অনেক পথচারী ও রিক্সা ওয়ালাকেই এমন দেখা গেছে যারা ইফতার শেষে নামাজের জায়গা খোঁজেন। জমিয়তের কর্মীরা তাদের মসজিদ দেখিয়ে দেয়। তারা নামাজে যায়।

ছবি : শেখ মুহাম্মদ, ইকরা মাল্টিমিডিয়া

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার নেতৃবৃন্দ যারা আছেন তারাও প্রবল উৎসাহে যোগ দিচ্ছেন প্রতিদিন কোনও কোনও পথইফতার কেন্দ্রে। কী প্রয়োজন! কতটুকু প্রয়োজন! দেখভাল করছেন নিত্য। বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার ঢাকা মহানগরীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন পরিদর্শন করতে বুধবার গিয়েছিলেন যাত্রাবাড়ী এ পথইফতার কেন্দ্রে। তিনি নিজেও আজানের সময় ইফতার বিলিয়ে দিয়েছেন সবার সাথেই।

সর্বোপরি জমিয়তের এ যুগান্তকারী পথইফতার কার্যক্রম সমাজে সৃষ্টি করেছে এক অন্যরকম প্রভাব। যাত্রাবাড়ীতেই দেখা গেছে আওয়ামীলীগ ক্লাব আয়োজন করছে অনেকজন মানুষের ইফতার। দ্বীনদরদি এই ভাইয়েরাও ডেকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছে মানুষকে। পৃথিবীর ভালো কাজগুলো আসলে এমনই। এগুলো ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মাঝে। একটি সুন্দর থেকে জন্ম হয় আরও কয়েকটি সুন্দরের। খোদার দরবারেও কবুল হয়, যদি এসব সামাজিক কর্মকাণ্ডগুলো হয় মানুষের কল্যাণার্থে। আল্লাহর সাথে সাধারণকে জুড়ে দেয়ার একনিষ্ঠ অভিপ্রায়ে। বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা সে একনিষ্ঠতাকেই লক্ষ্য বানিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সমাজের সবখানে।মানুষের দ্বারে দ্বারে।

——————————/

সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *