মির্জাপুরে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন

মির্জাপুরে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কয়েকটি ইউনিয়নে শত শত একর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে আছে। উপজেলার ২৮টি খাল ও বিল দখল করে অবৈধভাবে ভরাট করা এবং অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজ ও স্থাপনা নির্মাণ করায় শত শত একর জমির পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতায় ডুবে যায়।

জানা গেছে, অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কায় জমির ধান কাটছেন না। এতে ওসব কৃষকের জমির পাকা ধান পানির নিচেই নষ্ট হচ্ছে। এই জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর ফসলহানি ঘটে কৃষক ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও প্রতিকার করতে কেউ এগিয়ে আসছে না।

মির্জাপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় সবচেয়ে বড় কৃষি আবাদ হচ্ছে বোরো চাষ এবং দ্বিতীয় বৃহত্তর আবাদ হচ্ছে সরিষা আবাদ। চলতি বছর ২০ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অন্যদিকে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ৮ হাজার হেক্টর।

উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের ভুলোয়া-গুল্লার খাল, খাটিয়ারহাট, লতিফপুর ইউনিয়নের চানপুর খাল, টেংরাপাড়া বিল, কোনাইবিল, সলিমনগর খাল, মির্জাপুরের শিল্পাঞ্চল এলাকা গোড়াই ইউনিয়নের লালবাড়ি খাল, কোদালিয়া খাল, সোহাগপাড়া (শিকদারপাড়া) খাল, গোড়াই খাল, সৈয়দপুর বাকালীপাড়া খাল, বামনটেকী খাল, নগরের খাল, ভেকাই বিল, কচুয়াপাড়া, পালপাড়া জেইলা বিল, ফতেপুর ইউনিয়নের শুভূল্যা খাল, বারকাঠি বিল, পৌর এলাকার পুষ্টকামুরী খাল, আন্ধরা খাল, বারোখালী খাল, ভাওড়া ইউনিয়নের চামুটিয়া খাল, নিধিবাড়ী খাল, জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া খাল, সাটিয়াচড়া খাল, বানাইল ইউনিয়নের ভররার খাল, ভাইয়াকুড়া বিল, ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বাগজানের খাল স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দুই পাশ থেকে দখল নিয়ে ভরাট করে ড্রেনে পরিণিত করেছেন।

নিধিবাড়ী-বর্ধনপাড়া-কেশবপুর খালটি সচল না থাকায় সিঞ্জুরী বিলের বর্ষার পানি দীর্ঘদিন জমে থাকে। এতে সরিষা ও বোরো আবাদ ১৫ দিন থেকে একমাস পিছিয়ে যায়। কৃষক সরিষা তুলে বোরো চাষ করলে ধান পাকার আগেই তা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। একইভাবে এবারও এ এলাকার শত শত একর বোরো জমির ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।

সিঞ্জুরী গ্রামের কৃষক বদর মিয়া, চান মিয়া ও কৃষ্ণ সরকার বলেন, বর্ধন পাড়া-নিধিবাড়ী খালটি এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ভরাট করে দখল করায় এ এলাকার কৃষক প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ক্ষতিগস্ত হচ্ছে। আমাদের এত বড় সমস্যায় কেউ এগিয়ে আসছে না।

পৌর এলাকার পুষ্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক ভিপি আবু আহমেদ জানান, তার গ্রামের বিলের পাশে প্রায় ৬০ শতাংশ জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ৬-৭শ টাকা করে শ্রমিক। পানির নিচ থেকে ধান কেটে আনতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হবে তা ধান বিক্রি করেও দেয়া সম্ভব নয়।

ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন বলেন, নিধিবাড়ী খালটি কেশবপুর এলাকায় ভরাট হওয়ায় তার ইউনিয়নের চানপুর, ভাওড়া, হাড়িয়া ও পাইখার এলাকার কৃষক জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বছরও বিপুল পরিমাণ বোরো ধান তলিয়ে গেছে বলে তিনি জানান। এছাড়া গ্রামাটিয়া এলাকায় ভররার খালের মাথা ভরাট করায় ভাইয়াকুড়া বিলের শত শত একর জমির বোরো ধান বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে তলিয়ে গেছে বলে বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের ইউনিয়ন পরিষদের মো. ফারুক খান জানিয়েছেন।

পুষ্টকামুরী গ্রামের কৃষক হাজী হায়দার হোসেন জানান, বৃষ্টির পানিতে তার প্রায় ৩ একর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধান পানির নিচে থাকায় শ্রমিকের মুজুরিও বেশি। জমি থেকে ধান কেটে পারে আনতে ইউনিয়ন পরিষদের সুবিধার্থে তিনি কলাগাছের ভেলা বানিয়ে দিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, জলাবদ্ধতা থেকে কৃষকের ফসল রক্ষার জন্য ভরাট হওয়া খাল খনন ও ড্রেন নিমাণের জন্য প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

 

_ Patheo\106\sl

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *