বিএসটিআই আইন ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিপরিষদে

বিএসটিআই আইন ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিপরিষদে

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে  সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) আইন ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়। এছাড়া, জাতীয় পাটনীতি ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন ও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আজকের (সোমবার) মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) আইন ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এটি এতদিন পর্যন্ত ১৯৮৫ সালে জারি করা একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে চলছিল। এখন এটাকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। নতুন আইনে শাস্তি বাড়ানো হয়েছে।

নতুন আইনের ২৭ ধারায় বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যাবহার করলে দুই বছরের জেল  এবং সর্বোচ্চ একলাখ টাকার জরিমানা, অথবা উভয়দ-ের বিধান করা হয়েছে। তবে জরিমানার পরিমাণ কোনোভাবেই ২৫ হাজার টাকার নিচে হবে না।

২০ ধারায় বলা হয়েছে, রফতানি শর্ত ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। তবে তা কোনোভাবেই ১০ হাজার টাকার নিচে হবে না।

আইনের ২৬ ধারায় বলা হয়েছে, পণ্য বিক্রয় বিতরণ এবং বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে জারি করা প্রজ্ঞাপনের শর্ত ভঙ্গ করলে চার বছরের জেল এবং সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। তবে তা কোনোভাবেই ৫০ হাজার টাকার নিচে হবে না।

তবে কোনও অপরাধ যদি কোনও ধারার অন্তর্ভুক্ত না হয়, তাহলে তা ৩১ ধারায় পড়বে। ৩১ ধারায় সর্বোচ্চ একলাখ টাকা জরিমানা করা হবে। তবে তা ২৫ হাজারের নিচে হবে না।

আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে উল্লিখিত শাস্তি দ্বিগুণ হবে। এ সংক্রান্ত মামলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে চলবে। তবে দ্বিগুণ অপরাধের বিচার জজ আদালতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান,  জাতীয় পাটনীতি ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এই আইনটি প্রথমে ২০১১ সালে করা হয়। আইনটি অধিকতর পরিমার্জন এবং সংশোধন করে ২০১৮ সালে পুনরায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

গত ২৫ এবং ২৬ মে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে। এটি উপস্থাপন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী।

এ সময় মন্ত্রিসভাকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত যাওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শান্তিনিকেতনে সদ্য নির্মিত বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করেন এবং সেখানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতের সাহায্য চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তারপর দীর্ঘদিনের সিটমহল সমস্যা সমাধানের জন্য মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

ভারত সফরকালে শেখ হাসিনাকে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কবিগুরুর জন্মস্থান জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি এবং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র মিউজিয়াম পরিদর্শন করেছেন। এসময় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র মিউজিয়ামে থাকা ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণের একটি অডিও মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেন।

 

_patheo/106/sb

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *