নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নির্বাচনের বাকি আর মাত্র কয়েক মাস। বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে উন্নয়নমূলক কাজ ও চলতি বছর মেয়াদি প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ বেড়েছে। ফলে সরকারি আমলাদের কাজের গতি আগের তুলনায় বেড়েছে কয়েকগুণ। বিশেষ করে প্রশাসনের মূল কেন্দ্র সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের অধীনস্থ দফতরগুলোর কাজের গতি তদারকিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অবশ্য তাদের অনেকেরই দাবি, মন্ত্রণালয় তার রুটিন অনুযায়ী কাজ করছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, প্রাকৃতিক কিছু দুর্যোগ কাটিয়ে উঠায় কাজের গতি অনেকটাই বেড়েছে। সচিবালয়ের অনেক কর্মচারীও বলছেন, সরকারের শেষ সময়ে কাজের গতি তুলনামূলক বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনমত বর্তমান সরকারের পক্ষে নিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে কিছু কিছু মন্ত্রণালয় তার কাজের গতি বাড়িয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আতিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ করে থাকে। আমাদের ওইভাবে কিছু করার না থাকলেও জাস্ট একটা ওভারলুক থাকেÑ কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা, তা দেখা। পাশাপাশি আমাদের অফিসারদের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সরাসরি জড়িত থাকে।
জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বাড়ছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাদের প্রতি মাসেই মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে কাজের বিষয়ে মিটিং হয়ে থাকে যাতে কোনো কাজ পেন্ডিং (স্থগিত) হয়ে না থাকে। এক সরকার যাবে আরেক সরকার আসবে, যাতে করে কোনো প্রকল্পে ক্ষতি না হয়, সেভাবে কাজ করা হয়ে থাকে।
আতিকুর রহমান বলেন, প্রত্যেক মন্ত্রণালয় তার কাজের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে অ্যানুয়াল পারফরম্যান্স এগ্রিমেন্ট (এপিএ) করে থাকে। এতে করে কাজ করার ক্ষেত্রে আমরা স্বাধীন নই। আমাদের একটা টার্গেট ফিক্সড করা থাকে। কোন কাজ কত দিনের মধ্যে শেষ করা যাবে, তার একটা অঙ্গীকারনামা দেয়া থাকে। যার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করতে পারলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অটোমেটেডভাবে একটা মার্কিং কাউন্ট হবে, যা আমাদের মন্ত্রণালয়ের অবস্থান কোথায় তা নির্দেশ করবে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ড. অনিমা রানী নাথ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের কাজের গতি তুলনামূলক বেড়েছে। সরকারের শেষ সময় এবং নির্বাচনের বছর হওয়ায় কাজের গতি আগের চেয়ে বেশি কি নাÑ এমন প্রশ্ন করলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
এছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন) ফারুক আহমেদ বলেন, আমরা রেগুলেটিং মিনিস্ট্রি। ডিসিদের মাঠ পর্যায়ের কাজের মধ্যে আইনশৃঙ্খলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়ে থাকে। গতানুগতিক কাজ করে যাচ্ছেন ডিসিরা।
জাতীয় নির্বাচনে ডিসিরা কিভাবে কাজ করবেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে কাজ করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হাবিবুর বলেন, দেখুন নির্বাচন সামনে রেখে প্রত্যক্ষভাবে আমলাদের কোনো কাজ না থাকলেও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা আছে। যেমন এ বছরের বাজেটে মেগা প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড়ে যাতে সমস্যা না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এজন্য সরকারের লক্ষ্য অর্জনে নানাভাবে আমাদের কাজের চাপ তো বাড়বেই।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে প্রশাসনের আমলাদের উপর কাজের চাপ স্বভাবতই বেড়ে যাবে। তাছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময় বর্তমান সংসদ বহাল থাকবেÑ এটা একটা সমস্যা। এছাড়া নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞা ও প্রশাসনকে রাজনীতিকরণের বিষয়টিও একটা সংকট। এসব বাস্তবতায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরেও সহিংসতা কম হয়নি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, নির্বাচন মানে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। নির্বাচন মানে কারচুপি বা একতরফা নির্বাচন নয়।
নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ থাকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে কিছু বাধা আছে, সেগুলো তাদেরকে স্পষ্ট করে বলা উচিত। তাহলে হয়তো সমাধানের একটা উপায় বের হতে পারে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। সংসদ সদস্যরা শপথ নেয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৫ বছর পর্যন্ত থাকে নির্বাচিত সংসদের মেয়াদ। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি বর্তমান সরকার গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে।
এই নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের সাথে সংলাপ করেছে নির্বাচন কমিশন। নেয়া হয়েছে তাদের নানা সুপারিশ। জাতীয় নির্বাচনের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজও শুরু হয়ে গেছে। এরপর রোডম্যাপ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ ও অন্যান্য কাজে হাত দেবে নির্বাচন কমিশন।
_________________
patheo24,/105


