রমজানে জিকিরের আমল

রমজানে জিকিরের আমল

মাসউদুল কাদির : আমরা জানি, পবিত্র রমজানুল মোবারকে মহাগ্রন্থ কুরআনুম মাজিদ তিলাওয়াত করাও একটা জিকির। হাদীসে কুরআন তিলাওয়াতকে সর্বোত্তম জিকির হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তিলাওয়াত ছাড়াও আমরা অন্যান্য জিকিরগুলো করতে পারি। জিকির মানে আল্লাহর স্মরণ। যার মধ্যে আল্লাহর স্মরণ থাকে সে তো কখনো পাপাচারে লিপ্ত হতে পারবে না। রমজানে অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করা উচিত। চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে সর্বদা কালিমা তাইয়্যেবা, সুবহানআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পড়তে থাকা যায়। সকাল-সন্ধ্যা ও বিভিন্ন সময়ের মাসনুন জিকির ও দু’আসমূহ পড়া যায়। দরুদ শরিফও বেশি বেশি পড়া যায়।

হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সাহাবি হজরত আবু মুসা আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘যে ব্যক্তি স্বীয় পালনকর্তার কথা স্মরণ করে আর যে করে না তাদের উভয়ের দৃষ্টান্ত যথাক্রমে জীবিত ও মৃত। জিকির দিয়ে অন্যান্য ইবাদতের মজা ও স্বাদ পাওয়া যায়।’

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যার ভাষ্য প্রায় এ রকম- বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ জিকিরেকে স্মরণ করে, আল্লাহ ততক্ষণ ওই বান্দাকে স্মরণ করে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মোমিনরা, তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।’ (সূরা আল-আহজাব : আয়াত ৪১)। ‘আর তুমি নিজ মনে আপন রবকে স্মরণ করো সকাল-সন্ধ্যায় অনুনয়-বিনয় ও ভীতি সহকারে এবং অনুচ্চস্বরে। আর গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।’ (সূরা আল-আরাফ, আয়াত : ২০৫)। আল্লাহ আরও বলেন, ‘অতঃপর যখন তোমরা সালাত পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ করবে।’ (সূরা নিসা : ১০৩)।

একটা ছোট্ট জিকিরের কথা উল্লেখ করে শেষ করছি। অতি সংক্ষিপ্ত একটি জিকির কিন্তু আল্লাহর বড়ই প্রিয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘দুইটি বাক্য আল্লাহর কাছে বড় প্রিয়, উচ্চারণে একেবারে সহজ অথচ মিজানে (আখেরাতে নেকির পাল্লায়) অনেক ভারি’ ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম।’ (বোখারি : ৭৩৬৩; মুসলিম : ২৬৯৪)।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র রমজানে বেশি বেশি জিকির করার তাওফিক দিন। আমীন।

 

_Patheo/106/sl

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *