ইতেকাফ ৩ প্রকার | মুফতি রিয়াজুল ইসলাম

ইতেকাফ ৩ প্রকার | মুফতি রিয়াজুল ইসলাম

১. সুন্নাত ইতিকাফ : রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ। অর্থাৎ ২০ রমজানের সূর্য ডোবার আগ মুহূর্ত থেকে শাওয়াল মাসের চাঁদ ওঠা পর্যন্ত মসজিদে ইতিকাফ করা। এ ধরনের ইতিকাফকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিফায়া বলা হয়। গ্রাম বা মহল্লাবাসীর পক্ষে কোনও এক বা একাধিক ব্যক্তি এই ইতিকাফ করলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে।

২. ওয়াজিব ইতিকাফ: নজর বা মান্নতের ইতিকাফ ওয়াজিব। যেমন কেউ বলল যে, আমার অমুক কাজ সমাধা হলে আমি এতদিন ইতিকাফ করব অথবা কোনও কাজের শর্ত উল্লেখ না করেই বলল, আমি এতদিন অবশ্যই ইতিকাফ করব। যতদিন শর্ত করা হবে ততদিন ইতিকাফ করা ওয়াজিব। ওয়াজিব ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত। সুন্নাত ইতিকাফ ভঙ্গ করলে তা পালন করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

৩. নফল ইতিকাফ: সাধারণভাবে যে কোনও সময় ইতিকাফ করা নফল। এর কোনও দিন কিংবা সময়ের পরিমাপ নেই। অল্প সময়ের জন্যও ইতিকাফ করা যেতে পারে। এ জন্য মসজিদে প্রবেশের আগে ইতিকাফের নিয়ত করে প্রবেশ করা ভালো। ওয়াজিব ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত। জাহের রেওয়ায়েত মতে, নফল ইতেকাফকারীর জন্য রোজা শর্ত নয়।

তবে এ স্মরণ রাখতে হবে, উজরত অর্থাৎ বিনিময় বা পারিশ্রমিক দিয়ে কাউকে ইতিকাফে বসানো জায়েজ নয়। কেননা ইবাদতের উজরত দেওয়া ও নেওয়া উভয়ই শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ (ফাতওয়ায়ে শামী)।

নারীরা ঘরের যে স্থান ইতিকাফের জন্য নির্দিষ্ট করবেন,সে স্থানটি ইতিকাফকালীন তাঁর জন্য মসজিদের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে। ইসলামী শরিয়তের কোনও প্রয়োজন ছাড়া সেখান থেকে সরে যাওয়া জায়েজ হবে না। সে স্থানটির নির্দিষ্ট সীমার বাইরে, ঘরের অন্য অংশেও যেতে পারবে না। নির্দিষ্ট সীমার বাইরে চলে গেলে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে।

ইতিকাফ অবস্থায় আমলসমূহ: ইতিকাফকালীন অবস্থায় বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করার পাশাপাশি নফল নামাজ, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার, দোয়া-দরূদ, দান-সদকা ইত্যাদি নফল আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত। ইতিকাফকারীদের জন্য এগুলো করণীয় কারো সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ ও অনর্থক গল্প-গুজব বা বেহুদা কথাবার্তা বলে সময় নষ্ট করা অনুচিত।

লেখক : সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিআ ইকরা বাংলাদেশ, ঢাকা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *