পাথেয় ডেস্ক : রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে বাসে উঠতেই এক যাত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘শাহবাগে তো গ্যাঞ্জাম।’ এ কথা শুনে বাসের হেল্পার বলেন, ‘গ্যাঞ্জাম শুরু হইলে শাহবাগ যাওয়ার আগেই বাস ঘুরাইয়া ফেলামু।’
২ জুলাই সোমবার শাহবাগ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড় দিয়ে যাতায়াতকারী, চা-বিক্রেতা, দোকানিদের মধ্যে আতঙ্ক ও বাড়তি সতর্কতা দেখা গেছে।
৩০ জুন শনিবার সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে কোটা সংস্কার আন্দোনকারীদের পেটান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ১ জুলাই রবিবার আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামলেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শক্ত অবস্থানের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অনেককে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনকারীরা জানান, সোমবার তারা পতাকা মিছিল করবেন।
সোমবার শাহবাগ গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি। শাহবাগ থেকে টিএসসি মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। যানবাহন চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে দল বেঁধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাস্তায় শো-ডাউন দিচ্ছেন। মাঝে মাঝেই সমস্বরে চিৎকার করছেন। আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি নেই।
শাহবাগ, টিএসসিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম থাকলেও কলা ভবনসহ বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেখা যায়।
বেলা ১১টার দিকে এক দোকানি জানান, বেচাকেনা বন্ধ। পুলিশ দোকানপাট বন্ধ করতে বলেছে।
এই দোকানি আরও জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সকাল থেকে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। পুলিশ আর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দেখাই যাচ্ছে না।
এর আগে শনিবার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বেধড়ক পিটিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওই দোকানি জানান, রবিবার আন্দোলনকারীরা শাহবাগ-টিএসসিতে অবস্থান নিতে না পারায় আগের দিনের মতো ছাত্রলীগ তাদেরকে পেটাতে পারেনি। আর সোমবার আন্দোলনকারীদের দেখাই যাচ্ছে না।
এদিকে টিএসসিতে কথা হয় কয়েকজন সংবাদকর্মীর সঙ্গে। তারা জানান, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অাছেন, কিন্তু অবস্থান নিতে পারছেন না।


