সালে বের হওয়ার আবেদন জানিয়ে মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেবের প্রতি খোলা চিঠি

সালে বের হওয়ার আবেদন জানিয়ে মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেবের প্রতি খোলা চিঠি

পাথেয় ডেস্ক : ঢাকার মারকাযুদ্দাওয়ার শিক্ষাপ্রধান মাওলানা আবদুল মালেকের প্রতি দাওয়াত ও তাবলীগের সাথীদের পক্ষ থেকে একটি খোলা চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে ।

সম্প্রতি তাবলীগের আভ্যন্তরীণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে মাওলানা আবদুল মালেকের একটি ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ পেয়েছে।তাবলীগের সাথে সম্পৃক্ত জনসাধারণের মাঝে যেটা ব্যাপক মনোমালিন্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।এর পরপরই এই ধরণের একটি চিঠি এলো।পাঠকদের সামনে তা হুবহু তুলে ধরা হলো।

প্রতি,
হযরত মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব
আমীনুত তালীম
মারকাযুদ্দাওয়া, ঢাকা।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

মুহতারাম, আশা করি আল্লাহর মেহেরবানীতে ভালো আছেন।
আমরাও আপনার নেক তাওয়াজ্জুহ ও দোয়ায় ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।

পর-সমাচার,
হযরত, দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত আল্লাহর কাছে এক মকবুল মেহনত।
এই মেহনতের চলমান সিল-সিলা দারুল উলুম দেওবন্দেরই আওলাদ ফরযন্দগণ প্রবর্তন করেছেন। দারুল উলুম দেওবন্দেরই চিন্তাধারার কার্যত একটি রূপ এটি।
এটি কোন বাতিল বা গোমরাহ ফেরকা নয় আপনাদের মুখেই একথা বহুবার শুনেছি। পৃথিবীর প্রায় সবকটি দেশে এই মেহনত চলছে আলহামদুলিল্লাহ।

হযরত, আপনারা শিখিয়েছেন যে, আমরা এই দুই চোখে যা কিছু দেখি বা না দেখি সবই মাখলুক কেবল আল্লাহ ছাড়া, আল্লাহ সবই করতে পারেন মাখলুক ছাড়া, আর মাখলুক কিছুই করতে পারেনা আল্লাহ ছাড়া। এই কথার উপর একিন রাখার নামই হল ঈমান। ঈমান তাজা করতে আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া জরুরী।

আল্লাহ পাক রসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে চারটি কাজ দিয়ে পাঠিয়েছেন দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত তার মধ্যে একটি। এই নবী-ওয়ালা কাজের সবচে বেশী হকদার উলামা হযরত।আপনারাই এই মেহনতের সামনের কাতারে থাকবেন। আর আমরা এই আম মানুষরা থাকবো আপনাদের পিছনে পিছনে। হযরত’জি ইলিয়াস আলাইহির রহমাহ বলে গেছেন, আলেম উলামা জিম্মাদারি না নিলে এই মেহনত টিকবে না।

তাছাড়া সারা জীবন দরস ও তাদরিসের ব্যস্ততায় আম সমাজের সাথে মেশার ফুরসত হয় না, তাই উলামা হযরতের জন্য একসালে বের হওয়া উপকারী। আম মানুষের জন্য তিন চিল্লা।

হযরত, আজ আলমে বদ দ্বীনের আছর বড় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বেদ্বীন তো দূরের কথা খোদ মুসলমানরাই কালিমা পড়তে জানেনা, জানলেও তা সহীহ হয় না। কেরাত শুদ্ধ করে পড়তে জানে না। অজু-তহারাতের মাসআলা জানে না।
উম্মতের এই করুণ অবস্থায় উলামা হযরত এগিয়ে না এলে এই মেহনতের বড় কমতি থেকে যাবে।

তাই আমরা উম্মতের দিকে তাকিয়ে, উম্মতের ফিকিরে হযরতের কিছু সময় প্রদানের দরখাস্ত পেশ করছি। ইনশাআল্লাহ এতে উম্মতের বিরাট ফায়দা হবে।

মা’আসসালাম
সালের সাথীদের পক্ষ থেকে –
মুফতী মুমতাযুল হক
মুফতী ইকরামুল হক
মাওলানা শোয়াইব আহমদ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *