হজের ওয়াজিব

হজের ওয়াজিব

পবিত্র হজে গুরুত্বপূ্র্ণ তিনটি বিষয় তথা হজের ফরজ,ওয়াজিব ও সুন্নত সম্পর্কে জানা জরুরি।এ সবক’টি বিষয়ে জেনে পরিপূর্ণ আমল করে মহান মালিকের দরবারে হজ্জে মাবরুরের প্রার্থনা করি আমরা। নিচে হজের ওয়াজিবগুলো তুলে ধরা হলো-

হজের মধ্যে ওয়াজিব মোট ৮টি।

১। মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা।

হযরত ইবনে ‘আববাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাবাসীদের জন্য মীকাত নির্ধারণ করেন যুল-হুলায়ফাহ, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম ও নাজদবাসীদের জন্য ক্বারণ। উল্লিখিত স্থানসমূহ হজ ও ‘ওমরাহ’র নিয়তকারী সে স্থানের অধিবাসী এবং সে সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য এলাকার অধিবাসীদের জন্য ইহরাম বাঁধার স্থান। আর যে মীকাতের ভিতরের অধিবাসী সে নিজ বাড়ি হতে ইহরাম বাঁধবে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা হতেই ইহরাম বাঁধাবে।(সহীহ বুখারী)

২। সূর্যাস্ত যাওয়া পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করতে থাকা।

হযরত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি উসামা’কে বাহনের পেছনে বসিয়ে মধ্যম গতিতে উষ্ট্রী চালিয়ে গেলেন। এ সময় লোকেরা তাদের উটকে ডানে-বামে মারধর করে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তিনি তাদের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বলতে লাগলেন, শান্ত গতিতে চলো হে লোকেরা! অতঃপর সূর্য ডুবার পরই তিনি আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। (আবু দাউদ)

৩। আরাফার দিন শেষে ঈদের রাতটি ফজর পর্যন্ত মুযদালিফায় অবস্থান করা যতক্ষণ আকাশ প্রস্ফুটিত না হয়। তবে মহিলা ও দুর্বল পুরুষদের জন্য মধ্য রাতের পর মুযদালিফা ত্যাগ করা বৈধ আছে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পরিবারের দুর্বল লোকদের আগেই পাঠিয়ে দিয়ে রাতে মুযদালিফাতে মাশ‘আরে হারামের নিকট উকূফ করতেন এবং সাধ্যমত আল্লাহর যিকির করতেন। অতঃপর ইমাম (মুযদালিফায়) উকূফ করার ও রওয়ানা হওয়ার আগেই তাঁরা (মিনায়) ফিরে যেতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ মিনাতে আগমন করতেন ফজরের সালাতের সময় আর কেউ এরপরে আসতেন, মিনাতে এসে তাঁরা কঙ্কর মারতেন। ইবনে ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন, তাদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কড়াকড়ি শিথিল করে সহজ করে দিয়েছেন।(সহীহ বুখারী)

৪। আইয়ামে তাশরিকেরঃ অর্থাৎ [১১.১২ ও ১৩ তারিখের ] রাত্রি গুলি মীনা এলাকায় কাটানো।

হযরত ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, ‘আববাস(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)পানি পান করানোর জন্য মিনার রাতগুলোতে মক্কায় অবস্থানের ব্যাপারে নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন।(সহীহ বুখারী)

৫। আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলোতে তিন জামারাতেই কঙ্কর তথা পাথর নিক্ষেপ করা।

হযরত ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, তিনি প্রথম জামরায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলতেন। তারপর সামনে অগ্রসর হয়ে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতেন এবং উভয় হাত তুলে দু‘আ করতেন। অতঃপর মধ্যবর্তী জামরায় কঙ্কর মারতেন এবং একটু বাঁ দিকে চলে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী দাঁড়িয়ে উভয় হাত উঠিয়ে দু‘আ করতেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। এরপর বাতনে ওয়াদী হতে জামরায়ে ‘আকাবায় কঙ্কর মারতেন। এর কাছে তিনি বিলম্ব না করে ফিরে আসতেন এবং বলতেন, আমি নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি।(সহীহ বুখারী)

৬। দশ তারিখ ঈদের দিনে জামারাতুল আকাবাতে বা সর্ব শেষ বড় পাথর মারার স্থানে পাথর নিক্ষেপ করে) মাথার চুল মুণ্ডন করা অথবা ছোট করা হযরত আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা কামালেন এবং সাহাবীদের একদলও। আর অন্য একটি দল চুল ছোট করলেন।(সহীহ বুখারী)

৭। শুধু ক্বিরান ও তামাত্তু হজ পালনকারীদের জন্য হাদয়ী তথা হজের কুরবানী করা।

হযরত আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)কুরবানীর স্থানে কুরবানী করতেন। ‘উবাইদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহ আলাইহি) বলেন, (অর্থাৎ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর স্থানে।(সহীহ বুখারী)

৮। সকলের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করা।

হযরত ইবনে আববাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেদের আদেশ দেয়া হয় যে, তাদের শেষ কাজ যেন হয় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ। তবে এ হুকুম ঋতুমতী মহিলাদের জন্য শিথিল করা হয়েছে।(সহীহ বুখারী)


গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ

সূত্র :মুফতি মুহাম্মদ আমিমুল ইহসান

হজ্জ্ব ও ওমরাহ ফাযায়েল মাসায়েল

সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *