জয়কে হত্যা চেষ্টায় মাহমুদুর রহমান : প্রধানমন্ত্রী

জয়কে হত্যা চেষ্টায় মাহমুদুর রহমান : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : তিন বছর আগে পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার চেষ্টায় ‘দৈনিক আমার দেশ’ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাহমুদুরের সঙ্গে যায়যায়দিন এর সাবেক সম্পাদক শফিক রেহমানও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ তার।

শুক্রবার স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গণভবনে আওয়ামী লীগ প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলের অন্যায়, অত্যাচার, দুর্নীতির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের শাসনামলেও তাদের নানা নেতিবাচক তৎপরতা তুলে ধরেন। এ সময় শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে তার ছেলেকে ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান আর শফিক রেহমান-তাদের উদ্দেশ্য ছিল জয়কে অপহরণ করবে, এবং অপহরণ করে তাকে হত্যা করবে। অর্থ দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত এবং এই বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।’

আজকের দিনটি স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পাশাপাশি জয়ের জন্মদিনও। জয়ের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত গোপন তথ্য পেতে এফবিআইএর এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অপরাধে ২০১৫ সালে মামুনের ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারকে কারাদ- হয়েছে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশে প্রকাশ পেলে তোলপাড় হয়। তখন জয়ও বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া দেন। বলেন, যারা এই চক্রান্তে জড়িত, তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নথি অনুযায়ী জয়ের ব্যক্তিগত তথ্য তিনি বাংলাদেশি এক সাংবাদিককে দিয়েছিলেন এবং এর বিনিময়ে ৩০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন।

২০১৫ সালের ৪ আগস্ট ডিবির পরিদর্শক ফজলুর রহমান এ বিষয়ে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যা পরে মামলায় রূপান্তরিত হয়। এতে জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র আনা হয়। মামলায় বলা হয়, জাসাসের সহ-সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন এবং দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানরত বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র করছে।

‘প্রাপ্ত তথ্যসমূহ পর্যালোচনা করে সন্দেহ করা হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশসহ বিশ্বের যে কোনো দেশে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জীবননাশসহ যে কোনো ধরনের ক্ষতির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে বিএনপির হাইকমান্ড দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অর্থায়ন করছে।’

২০১৬ সালের এপ্রিলে শফিক রেহমানকে তার ইস্কাটনের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তার বাসা থেকে জয় সংক্রান্ত কিছু তথ্য ও গোপনীয় নথিও পাওয়া গেছে। পাঁচ মাস পর উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে মুক্তি পান শফিক রেহমান। অন্যদিকে দৈনিক আমার দেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ঢাকার কারওয়ান বাজারের কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হন। ২০১৬ সালের এপ্রিলে তাকে জয়কে অপহরণ ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই বছরের নভেম্বরে মাহমুদুর রহমান জামিনে মুক্তি পান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *