তিন সিটি নির্বাচন সোমবার, বিএনপির অভিযোগ

তিন সিটি নির্বাচন সোমবার, বিএনপির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সোমবার সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, শনিবার (২৮ জুলাই) রাত ১২টার পর থেকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। তাই তিন সিটির কোথাও  রোববার প্রচারণা চোখে পড়েনি। তাবে রাজশাহী ও সিলেটে বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন। এদিকে শেষ সময়ে নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা ।

আমাদের রাজশাহী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রাজশাহীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দলের নেতাদের নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। পরে তিনি সংবাদিকদের বলেন, সোমবার কাফনের কাপড় পরে ভোট কেন্দ্রে যাবো। আমরা সব নির্যাতন-জুলুম সহ্য করে এখনও পর্যন্ত নির্বাচনে আছি। কিন্তু সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। প্রশাসন ও পুলিশ যেভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করছে, তাতে পরিস্থিতি সুষ্ঠু নয়। পুলিশ আমাদের নির্যাতন করছে। আমরা ২৩-২৪ জন পুলিং এজেন্টকে খুঁজে পাচ্ছি না। অন্যদেরও নানাভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে তিনি সকাল থেকেই উপশহরের বাসায় অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, প্রচারণা শেষ হয়েছে। আমি সকাল থেকে বাসায় আছি। কোথাও বের হয়নি।

অন্যদিকে, রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর গভ. ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে নির্বাচনি সরঞ্জাম বিভিন্ন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বেলা ১১ থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে সব কেন্দ্রে সরঞ্জাম পাঠানো হবে বলে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এছাড়া রাজশাহী সিটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে নগরীজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির কারণে কারও কারও মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক কাজ করছে।

সিলেট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সিলেটে  রোববার সকালে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী রিটার্নিং কর্মকর্তা আলিমুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করেছেন। পরে আরিফুল অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নির্দেশ থাকার পরও আমাদের নেতাকর্মীদের বাসায় তল্লাশি-অভিযান চালানো হচ্ছে। নির্বাচনি এজেন্টদের তালিকা চাচ্ছে পুলিশ। পুলিশের উদ্দেশ্য কি তা আমরা বুঝতে পারছি না। এছাড়া সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা পুলিশের সহযোগিতায় বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

বিএনপির প্রার্থী বলেন, ভোটের দিন যদি কোনও ভোটকেন্দ্রে কারচুপি বা বিশৃঙ্খ্লা সৃষ্টি করা হয় তবে তার দায় কমিশনকে নিতে হবে। কমিশন ব্যর্থ হলে সাধারণ জনগণকে নিয়ে আমরা এর প্রতিহত করবো।

এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান বলেছেন, দুপুর ১২টা থেকে নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণ শুরু হয়েছে। বিকেল ৪টার মধ্যে এগুলো ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে।

আরিফুজ্জামান জানান, ৩ হাজার ৫০০ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এই সিটিতে দায়িত্ব পালন করবেন। এরমধ্যে ২ হাজার ৫০০ আনসার, ৩২০ র্যা ব ও ১৪ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের জন্য মেট্রোপলিটন এলাকাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো উত্তর, দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এলাকা।

বরিশাল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরেজমিনে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে অনেকটা থমথবে ভাব বিরাজ করছে। নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনও কথা বলছেন না। এমনকি চায়ের দোকানেও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে দেখা যাচ্ছে না। তবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন।

এর আগে শনিবার বরিশালে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ারের পক্ষে নেতাকর্মীরা শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ ও প্রচারণার কাজে বের হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের বাধা দেয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *