নিজস্ব প্রতিবেদক ● রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গরম পড়তে না পড়তেই শুরু হয়েছে পানির সঙ্কট; তালতলাবাসীকে সেই সঙ্কটের মুখোমুখি এখনও হতে হয়নি; ওয়াসার পানি তারা ঠিকই পাচ্ছেন, কিন্তু তা ব্যবহার করতে পারছেন না। গত দেড় মাস ধরে সরবরাহ নলে আসা দুর্গন্ধযুক্ত পানি খাওয়া তো যাচ্ছেই না, গৃহস্থালি অন্য কাজেও তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে কাফরুলের তালতলার বাসিন্দারা জানান। একই অবস্থা পশ্চিম শেওড়াপাড়ার কয়েকটি মহল্লায়ও। তালতলার মোল্লাপাড়া, মা ভিলা গলি, শহীদ জামিল সড়ক, মোল্লাবাড়ি মোড়, শেওড়াপাড়ার শহীদ শামীম সরণির বাসিন্দাদের খাওয়া ও রান্নাবান্নার জন্য পানি কিনতে হচ্ছে। মোল্লাপাড়ার ১৭০ নম্বর বাড়ির মালিক ওসমান গনি বলেন, সাপ্লাই নিয়া কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু পানিতে এমন দুর্গন্ধ যে এইটা দিয়া কুলিও করা যায় না, খাওয়া তো দূরের কথা। মোল্লাবাড়ির মোড় এলাকার গৃহিণী ফাহিমা বেগম জানান, এই পানি ব্যবহার করে তার দুই সন্তান এখন জন্ডিসে আক্রান্ত।
এই পানির কারণে আমার বাসার দুইজনের জন্ডিস। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার কইছে পানির কারণে হইছে। তালতলার মা ভিলা গলির বাসিন্দা মো. বাবুল মিয়া জানালেন, তার এলাকায় দিনে যে পানি আসে তা ব্যবহারের অযোগ্য। তবে রাতে স্বাভাবিক পানি আসে। সকাল ৮টার পরে যে পানি আহে তা দিয়া গোসল করা যায় না, পুরা নোংরা পানি। তয় রাইতে ১১টার পরে ভালো পানি আহে। সেই পানি দিয়া গোসল করি, খাওনের পানিও জমাইয়া রাখি। এখন প্রতিদিন পানি কিনতে হওয়ায় খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা জানান মোল্লাপাড়া রোডের বিশ্বাস বিল্ডার্স এপার্টমেন্টের বাসিন্দা নুরুন নাহার মাওলা।
পানিটা যখন আমি ফুটাতে শুরু করি তখন সেখানে এক ধরনের শ্যাওলা রঙের ফেনা তৈরি হয়। ফুটানো পানিও আমি ব্যবহার করতে না পেরে কিনতে বাধ্য হচ্ছি। পানির জন্য বাড়ি মালিককে ১ হাজার টাকা দিতে হয়। আর এখন আরও বাড়তি ৩ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। শুধু পানির বিল ৪ হাজার টাকা দেওয়াটা আমার জন্য সমস্যার। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ পাচ্ছেন বলে জানান পশ্চিম শেওড়াপাড়ার শামীম সরণির বাসিন্দা মো. নয়ন চৌধুরী। পানিতে দুর্গন্ধ, পানিতে পোকামাকড়ও আসছে। ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়ারাও কমপ্লেইন করছে। নগরবাসীর এই দুর্ভোগ নিয়ে কথা বললেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেন, সরবরাহ নলের কোথাও ছিদ্র থেকে পানির এই সমস্যা হতে পারে।
সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেবেন তিনি। কোথাও হয়তো লিক হয়েছে। অথবা চোরাই লাইন নিতে গিয়ে কোথাও পাইপ ফুটো করেছে ফেলেছে। এসব কারণে পানিতে দুর্গন্ধ হতে পারে। তবে আমরা লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিচ্ছি। সমস্যা থাকলে সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা ওয়াসার পানি নিয়ে যে কোনো অভিযোগ জানাতে ১৬১৬২ নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান কর্মকর্তা। গ্রাহকদের কোনো অভিযোগ থাকলে তারা সেখানে (এই নম্বর) জানাবে। এখানে অভিযোগ জানালে তার রেকর্ড থাকে। তারপর আমার লোক না গেলে আমি ফলোআপ করতে পারি। অভিযোগ নম্বরে ফোন না করলে সমস্যা চিহ্নিত করা যায় না বলে জানান ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বলা হচ্ছে, বাসায় বাসায় পানিতে দুর্গন্ধ, অথচ আমি ফোন রেকর্ড চাইলে দেখা যায় সারা মাসে রেকর্ড হয়েছে তিনটা। অথচ এমনিতে প্রচুর অভিযোগ। লোকজন সেখানে অভিযোগ না করলে আমি কী করে বুঝবো যে কোন এলাকায় পানির কী সমস্যা?


