দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উধাও হওয়ার পর এবার পার্বতীপুর মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ৩ লাখ ৬০ হাজার টন পাথরের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। জানা যায়, গেল মাসের ২৯ তারিখ এমজিএমসিএল’র বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বড়পুকুরিয়ায় কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনাটি জানাজানির পর এবার পাথর উধাও হওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করা হলে খনি কর্তৃপক্ষ ঘটনা ধামাচাপা দিতে পাথর উধাও হওয়ার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, অনেক পাথর মাটির নিচে দেবে গেছে। তবে, স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পাথর অনিয়মের সঙ্গে কর্মকর্তা ও স্কেল অপারেটররা জড়িত বলে অনেকেই ধারণা করছে।
প্রসঙ্গত, পার্বতীপুর মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি উন্নয়নকালীন পর্বসহ ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করা হয়েছে ৪২ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৫ মেট্রিক টন। এমজিএমসিএল বোর্ড সভায় উত্থাপিত ওই প্রতিবেদনে ২০০৬-২০০৭ অর্থবছর থেকে ২০১২-২০১৩ অর্থবছর পর্যন্ত পরিমাপগত ত্রুটি ও সিস্টেম লস দেখানো হয় দুই লাখ ২৭ হাজার ২৩৩ মেট্রিক টন পাথর। এছাড়া ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৬ হাজার ৪৮৬ মেট্রিক টন পাথর খনি ইয়ার্ডে মাটির নিচে দেবে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসী ও খনি শ্রমিকরা মাটির নিচে দেবে গেছে বা মাটি খেয়ে ফেলেছে এমনটা মানতে নারাজ।
স্থানীয় এক বাসিন্দ বলেন, এখানকার কর্তৃপক্ষ বলতে পারে না, খনির তথ্য কীভাবে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এখানকার পাথর কীভাবে চুরি হয়ে যায়, তাহলে তা তারা কীভাবে জানবে?
মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের জিএম (মার্কেটিং) আবু তালেব ফারাজী জানান, ১১টি স্টক ইয়ার্ডে ডাস্ট এবং দেবে যাওয়া অবস্থায় পাথর বিদ্যমান আছে, কিন্তু তা বিক্রয় অযোগ্য। পাথর উঠানোর স্কিপের নিচ দিয়ে কিছু কাদা পানি পড়ে যায়। যখন ট্রাকে পরিবহন করে, তখন ওজন স্কেলে যাওয়ার আগপর্যন্ত ছড়িযে-ছিটিয়ে পড়ে এভাবে ২ শতাংশ লোকসান হয়। তবে এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ২০১২ সালে ও ২০১৩ সালে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এই বিষয়গুলো যাছাই করতে এই পর্যন্ত ৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তখন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কমিটি এটার উপর কাজ করছে। এই কমিটিগুলো জানিয়েছে, এই পাথর আছে। তবে তা বিক্রি করা যাচ্ছে না।
খনি কর্তৃপক্ষের দাবি, হদিস না পাওয়া ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮১৬ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন পাথরের মূল্য বাবদ ৫৫ কোটি ২৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৪৮ টাকা সমন্বয় করার জন্য এমজিএমসিএল বোর্ডকে অনুরোধ করেছে। ১৯৭৪ সালে আবিষ্কৃত খনিটিতে পাথরের মজুদের পরিমাণ ১৭ কোটি ৪০ লাখ মেট্রিক টন। তবে, ২০১৮ সালে পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প থেকে প্রায় ৩ লাখ টন পাথর হদিস মিলছে না বলে এলাকাবাসী ও শ্রমিকদের ভাষ্য।


