কাউসার মাহমুদ : একজন মানুষ তার সব অভিপ্রায়, ইচ্ছে নিয়ে বেঁচে থাকে একটি আনন্দের ভেতর। ইচ্ছেগুলো সব পূর্ণতা পাক এটিই থাকে জীবনের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু একজন মুমিন! যিনি মানুষ থেকে আরেকধাপ উতরে মুমিন হয়ে উঠেছেন। হয়েছেন ‘মুমিন’ ঈমানওয়ালা। তার সব ইচ্ছে, অভিপ্রায় তার প্রভূকে ঘিরেই। মালিকের সাক্ষাৎ ও প্রেম লাভই হলো মুমিনের পরম আরাধ্যের। সেজদা আর ‘ইয়া রব’ বলে ডেকে ডেকে আত্মিক প্রশান্তি অনুভব করে সে। যে অনুভব বাহ্যত নয় বরং অতীন্দ্রিয় এক পবিত্র শক্তির বলে সে গাইতে থাকে প্রভুর গান।
আল্লাহর ঘরের কিনারে দাঁড়িয়ে আওয়াজ দেয় ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদ ওয়ান নিমাতা লাকাওয়াল মুলক, লা-শারিকালাক’ লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক।
এটা এমন এক ঘর। এমন এক প্রেম সরোবর। যার ঠিক উপরেই আরশে আযীম। আল্লাহর আসন।
এখান থেকেই তিনি পর্যবেক্ষণ করেন ;বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎসহ পূর্বাপর সবকিছুই। এখানে বসেই তিনি দেখেন তার কোন ‘মাজযুব’ বান্দারা এলো তার ঘরের দুয়ারে। কার মাথা লুটিয়ে পড়লো তার সেজদায়। কে ডাক দেয় মালিক বলে! কে ডাকে আল্লাহ। কে ডাকে রহিম বলো! কে ডাকে গাফফার। মহান মালিক তখন আনন্দিত হন। তার দয়া আর অনুগ্রহ তখন ব্যাপৃত হয়ে পড়ে সবার মাঝেই। সর্বদা রহমতে ঘেরা এই কাবা ঘরেই আবারো বর্ষণ হয় প্রভুর অনুগ্রহ। মুমিন তন্ময় হয়ে শুনতে থাকে লাব্বাইকের গান। উদ্বেল হৃদয়ে সমাপিত হয় আল্লাহর কদমে।
পুরো হজের সময়টুকুই, যতদিন হাজীরা থাকে এই কাবার চত্বরে। কালো গিলাফ জড়িয়ে ধরে তাদের যে নিঃসীমতা। নিজের পাপপুণ্য তুলে রেখে, স্রষ্টার সন্তুষ্টি ও দিদার লাভের এই যে আকুলতা! কে বুঝবে এই প্রেম। এই প্রগাঢ় আহ্বান। শুধু আশেকের অন্তরেই প্রতিধ্ববনিত হতে পারে লাব্বাইকের ডাক। যে ঘর ডাকে বারবার।


