আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তিন গুহা বালক ও তাদের কোচকে থাইল্যান্ডের নাগরিকত্ব দেয়াকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা। গত মাসে গুহায় আটকেপড়া থেকে উদ্ধার হওয়ার পর ওয়াইল্ড বোয়ারস কিশোর ফুটবল দলের তিন সদস্য ও তাদের কোচকে বুধবার নাগরিকত্ব দিয়েছে থাইল্যান্ড।
উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং রাইপ্রদেশের মায়ে সাই জেলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে থাইল্যান্ডের নাগরিকত্বের কার্ড তুলে দেয়া হয়েছে। জেলার প্রধান কর্মকর্তা সোমসাক কানাকাম এ কার্ড তুলে দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ইউএনএইচসিআরের বিশেষ পরামর্শক ক্যারোল ব্যাচেলর বলেন, তিন কিশোর ও তাদের কোচকে নাগরিকত্ব দেয়ার মাধ্যমে থাইল্যান্ড তাদের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে গড়ে তোলার সুযোগ দিয়েছে। এতে তারা নিজেদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারবে। দেশটির একটি পার্বত্য গুহায় কিশোর ফুটবল দলটি আটকা পড়ার পর জানা গেছে, থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া প্রায় চার লাখ ৮০ হাজার রাষ্ট্রহীন শরণার্থীরদের মধ্যে দলটির তিন সদস্য ও তাদের কোচও রয়েছেন।
এ খবর চাউর হলে তাদের নাগরিকত্বের আবেদন গ্রহণ করার বিষয়ে জনমত তৈরি হয়। কিশোর দলটির ওই তিন সদস্যের জন্ম থাইল্যান্ডে বলেও খবর হয়।
গত ২৩ জুলাই মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী চিয়াং রাইপ্রদেশের থাম লুয়াং গুহায় প্রবেশের পর নিখোঁজ হন তারা। ১০ দিনের মাথায় গত দুই ব্রিটিশ ডুবুরি গুহা মুখ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে তাদের খোঁজ পান। এর আরও ছয় দিন পর আটকা পড়া দলটির কয়েক সদস্যকে প্রথম বের করে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। ১৮ দিন পর ১০ জুলাই সবাইকে উদ্ধার করে গুহার বাইরে আনার পর এক রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার অবসান হয়।
এই পুরো সময়টিতে গুহায় আটকেপড়া ওই কিশোরদের নিরাপদ রাখার জন্য তাদের কোচ একাপল চান্তাওয়ং ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন। থাইল্যান্ডে বসবাস করা রাষ্ট্রহীন শরণার্থীদের মধ্যে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস ও চীনের সীমান্ত অঞ্চলে বসবাস করা বিভিন্ন যাযাবর পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


