সাড়ে ৩ মাসেও গ্রিডে যুক্ত হয়নি এলএনজি

সাড়ে ৩ মাসেও গ্রিডে যুক্ত হয়নি এলএনজি

চট্টগ্রাম ব্যুরো : এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না। গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ১ লাখ ৩৩ হাজার ঘনমিটার এলএনজিবাহী জাহাজটি মহেশখালীতে সমুদ্রে নোঙর করেছে; কিন্তু প্রায় সাড়ে ৩ মাস অতিবাহিত হলেও গ্রিডে যুক্ত হয়নি এলএনজি। সরকারের প্রথম ঘোষণায় গত ১৫ মে থেকে চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর পর আরো কয়েক দফায় তারিখ ঘোষণা করা হলেও সরবরাহ নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এলএনজি সরবরাহ বিলম্বের কারণে চট্টগ্রামে শিল্পোদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন। অনেকেই উৎপাদন শুরু করার প্রস্তুতি নিয়ে গ্যাসের অপেক্ষায় রয়েছেন।

কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে শিল্পের ৬৭৬টি গ্যাস সংযোগের অনুমোদন দিয়েছে। এসব সংযোগের বিপরীতে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। শিল্পের এলএনজির ২৬৮টি সংযোগের জন্য ডিমান্ডনোটের টাকা পরিশোধ করেছে গ্রাহকরা। এসব গ্রাহকের গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৩৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এরা নিরাপত্তা জামানত বাবদ পরিশোধ করেছেন প্রায় ১৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত সঞ্চালন পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। চট্টগ্রামে গ্যাসের রিং মেইন পাইপ লাইন ইতোমধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে। পাইপ লাইনে কোনো ত্রুটি রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, বিদ্যমান বিতরণ লাইন দিয়ে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যায়। তাই ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

কেডিএস গ্রুপের টেক্সটাইল ও ওয়াশিং ডিভিশনের প্ল্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মাখন বণিক বলেন, আমাদের নতুন সংযোগের ৩টি আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। ২০১০ সালের মধ্যে এসব আবেদন করে ডিমান্ডনোটের টাকা পরিশোধ করেছি। গ্যাস না পাওয়ায় ডিজেল দিয়ে কারখানা চালানো হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। এখন এলএনজির অপেক্ষায় রয়েছি।’

বিএসআরএমের নির্বাহী পরিচালক তপন সেন গুপ্ত বলেন, ‘আমাদের কয়েকটি গ্যাস সংযোগের আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। অনেক আগে এসব আবেদন করা হয়েছিল। সবগুলো সংযোগ শিল্পের নতুন ইউনিট চালুর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন চেম্বারের ভাইস-চেয়ারম্যান মাহাবুব চৌধুরী বলেন, উৎপাদনে যাওয়ার জন্য অনেকেই প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছে। গ্যাস সরবরাহ বিলম্বে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

প্রসঙ্গত, এলএনজির জন্য আবেদন করা নতুন শিল্পের মধ্যে ভারী, হালকা ও মাঝারি ধরনের শিল্প রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ক্যাপটিভ পাওয়ার ও পুরাতন শিল্পে গ্যাসের লোড বৃদ্ধির আবেদন। সরকারি ভাবে চট্টগ্রামে ৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও একটি সার কারখানা এলএনজির অপেক্ষায় রয়েছে। গ্যাস সংকটে দীর্ঘদিন যাবৎ রাউজান ও শিকলবাহায় অবস্থিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৪৮০ মেগাওয়াট। এছাড়া সিইউএফএল গ্যাস সংকটে বন্ধ রয়েছে। এলএনজি দিয়ে এসব কারখানা চালু করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *